এপস্টাইন ফাইলে ডিপি ওয়ার্ল্ডের নাম

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৩০

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) দুবাইভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এর প্রতিবাদে শ্রমিক ধর্মঘটসহ নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বহুল আলোচিত এপস্টাইন ফাইলেও দুবাইয়ের ঐ কোম্পানির নাম এসেছে। 

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফের এক খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যে টেমস নদীর তীরে ১৮০ কোটি পাউন্ড ব্যয়ে একটি বন্দর নির্মাণে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে সহযোগিতা করেছিলেন জেফরি এপস্টাইন। এ জন্য তত্কালীন ব্রিটিশ বাণিজ্যমন্ত্রী পিটার ম্যান্ডেলসনকে প্রভাবিত করতেও (লবিং) কাজ করেছিলেন।

মার্কিন বিচার বিভাগ প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, ২০০৯ সালে ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যান সুলতান আহমেদ বিন সুলায়েমের বিনিয়োগ সংক্রান্ত একটি ইমেইল ম্যান্ডেলসনকে ফরোয়ার্ড করেছিলেন এপস্টাইন। সুলায়েম তখন লন্ডন গেটওয়ে প্রকল্পের জন্য বিনিয়োগ ও সরকারি ঋণের গ্যারান্টি পাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। 

এপস্টাইনের ফরোয়ার্ড করা সুলায়েমের ইমেইলে লেখা ছিল, ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন পাউন্ডের প্রকল্পটি যুক্তরাজ্যের বৃহত্তম অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ অবকাঠামো প্রকল্প। নতুন বন্দরটি ৩৬ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে প্রতি বছর ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন পাউন্ড যোগান দেবে। পরে দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি এসেক্সে টেমস নদীতে একটি বন্দর নির্মাণ করে।

২০০৯ সালের জুলাইয়ে বিন সুলায়েম এপস্টাইনকে আরেকটি মেইল পাঠিয়েছিলেন। তাতে লেখা ছিল, যেহেতু ব্যাংকগুলো যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি নিয়ে খুব একটা আশাবাদী নয়, তাই সরকারকে ঋণ সহায়তা বা গ্যারান্টি দিতে হবে। একই সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমের রাষ্ট্রীয় সফরের আগেই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।

সমালোচনার মুখে গত রবিবার ম্যান্ডেলসন ব্রিটিশ লেবার পার্টির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। নথির বিষয়ে জানতে ডিপি ওয়ার্ল্ড ও ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল দ্য টেলিগ্রাফ। তাদের মধ্যে ম্যান্ডেলসন বলেছেন, এপস্টাইনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার জন্য তিনি অনুতপ্ত। এজন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন তিনি। 

ইত্তেফাক/এসআর