ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, বগুড়া-৪ (কাহালু ও নন্দীগ্রাম) আসনের রাজনৈতিক উত্তাপও তত বেড়েছে। সকাল থেকে রাত, গ্রাম-বাজার থেকে মহল্লা, হাট-ঘাটে প্রার্থীরা এখন দিনের প্রতিটি মুহূর্তই ব্যস্ত সময় পার করছেন।
বগুড়া-৪ আসনের চার প্রার্থীর মধ্যে বিএনপির ধানের শীষ এবং জামায়াতে ইসলামীর দারিপাল্লা প্রতীকের প্রচারণা সবচেয়ে সক্রিয় ও দৃশ্যমান। নির্বাচনী মাঠে চোখে পড়ে প্রতিদিন গ্রাম থেকে গ্রামে পদচারণা, হাট-বাজারে সমাবেশ এবং পাড়া-মহল্লায় গণসংযোগ। অন্যদিকে, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের প্রচারণা তুলনামূলকভাবে কম।
নন্দীগ্রাম উপজেলার ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৬২ হাজার ১০০। এর মধ্যে নারী ভোটার ৮১ হাজার ৪৬৫, পুরুষ ভোটার ৮০ হাজার ৬৩৪ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ জন। উপজেলায় পাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে, যেখানে মোট ৪৯টি ভোটকেন্দ্র বসানো হয়েছে।
বগুড়া-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন বলেন, এই আসনের মানুষ বরাবরই বিএনপির রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। ভোটের মাধ্যমে গণতন্ত্র ও উন্নয়ন ফিরিয়ে আনাই আমার লক্ষ্য। সাধারণ ভোটাররা এখন ১২ তারিখের জন্য অপেক্ষা করছে। ধানের শীষে সিল মারার আগ্রহ চোখে পড়ার মতো।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ বলেন, ভোটারদের সাড়া পেয়ে আমি আশাবাদী। সততা, ন্যায়বিচার এবং যোগ্য নেতৃত্বের পক্ষে মানুষ ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। আশা করছি দারিপাল্লার জয় নিশ্চিত হবে।
জাতীয় পার্টির শহীদ মোস্তফা কামাল ফারুক বলেন, আমি আগেও নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। সাধারণ মানুষের সমস্যা ও এলাকার উন্নয়ন ভাবনা নিয়ে কাজ করতে চাই।
ইসলামী আন্দোলনের মুহাম্মাদ ইদ্রিস আলী বলেন, ইসলামী আদর্শের আলোকে সমাজ গঠনের লক্ষ্যে নির্বাচন করছি।
নির্বাচনের উত্তাপে সাধারণ ভোটাররাও আগ্রহী। আবু রায়হান বলেন, এবার মানুষ ভোট দিতে চায়। কে উন্নয়ন করবে, সেটা আমরা দেখব।
মিতালী রায় বলেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট হলে আমাদের পছন্দের প্রার্থীকে বেছে নিতে পারবো।
নন্দীগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক। শান্তিপূর্ণ প্রচারণা এবং ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা শারমিন আরা বলেন, প্রার্থীদের সমান সুযোগে শান্তিপূর্ণভাবে প্রচারণা চালাতে আমরা নজর রাখছি। আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারুক, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বগুড়া-৪ আসনের নির্বাচনী ইতিহাসও নজরকাড়া। স্বাধীনতার পর ১২টি জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং দুইটি উপনির্বাচনসহ মোট ১৪ বার ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের মোজাফর হোসেন, ১৯৭৯ সালে বিএনপির একেএম মতিয়ার রহমান প্রামাণিক, ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির মামদুদুর রহমান চৌধুরী জয়ী হন। এরপর আসনটি দীর্ঘ সময় বিএনপির দখলে থাকে। ১৯৯১ সালে বিএনপির আজিজুল হক মোল্লা নির্বাচিত হন। মৃত্যুর পর ১৯৯৪ সালের উপনির্বাচনে তার ছেলে ডা. জিয়াউল হক মোল্লা জয়ী হন। ১৯৯৬ সালের দুই নির্বাচনে ও ২০০১ সালে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে বিএনপির জেড আই এম মোস্তফা আলী, ২০১৪ সালে জাসদ(ইনু)-এর একেএম রেজাউল করিম তানসেন, ২০১৮ সালে আবার বিএনপির মোশাররফ হোসেন এবং ২০২৩ ও ২০২৪ সালে জাসদের একেএম রেজাউল করিম তানসেন সংসদে জয়ী হন।
