মাটি চুরির তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে গণমাধ্যমের তথ্য সঠিক নয়: বিসিবি 

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:৩৩

পূর্বাচলের জাতীয় ক্রিকেট মাঠ নির্মাণে মাটি ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ সংক্রান্ত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল স্টার নিউজের ‘স্টার প্লে’ অনুষ্ঠানে প্রচারিত প্রতিবেদনের বিষয়ে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিসিবি জানায়, তদন্ত কমিটির কাছ থেকে এখনো তারা কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন পায়নি।

বিসিবির বিবৃতিতে বলা হয়, পূর্বাচলের জাতীয় ক্রিকেট মাঠের মাটি ক্রয়ের অনিয়ম খতিয়ে দেখতে গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি এখনো তাদের পর্যবেক্ষণ বা চূড়ান্ত প্রতিবেদন বোর্ডের কাছে জমা দেয়নি। সে কারণে সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে যেসব তথ্য প্রচার করা হয়েছে, তা তদন্তের বর্তমান বাস্তব পরিস্থিতির সঠিক প্রতিফলন নয় বলে মনে করছে বোর্ড।

বিসিবি আরও জানিয়েছে, সঠিক, নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার স্বার্থে স্টার নিউজ কর্তৃপক্ষকে সংবাদটির বিষয়বস্তু পুনরায় পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার জন্য বিনীতভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

গুরুতর অভিযোগ স্টার প্লের অনুসন্ধানে

স্টার প্লের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, পূর্বাচলের স্টেডিয়ামের মাটি ক্রয়ে অনিয়মের ঘটনায় বিসিবির গঠিত একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি দীর্ঘ সময় পর তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। সেই প্রতিবেদন এখন স্টার প্লের হাতে রয়েছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তে মাটি লুটপাটের ঘটনায় বিসিবির একাধিক সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। অভিযোগের তালিকায় রয়েছেন গ্রাউন্ডস কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুব আনাম, সাবেক ফাইনান্স কমিটির চেয়ারম্যান ফাহিম সিনহা, বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন, পিচ কিউরেটর বদিউল আলম খোকন এবং উইনস্টার কোম্পানি।

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

স্টার প্লের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পূর্বাচল প্রকল্পে ২০ হাজার ঘনফুট মাটি সরবরাহের কথা থাকলেও বাস্তবে সরবরাহ করা হয়েছে মাত্র ৮ হাজার ৯৪৮ দশমিক ৮০ ঘনফুট। অথচ এ কাজের জন্য বিল উত্তোলন করা হয়েছে ৩৭ লাখ টাকা। 

প্রতিবেদনের তথ্যমতে, মাটি কেনা হয়েছে মাত্র ১৬ লাখ ৫৫ হাজার ৫২৮ টাকার, আর অবশিষ্ট ২০ লাখ ৪৪ হাজার ৪৭২ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

শাস্তির সুপারিশ, বিসিবির অস্বীকৃতি

স্টার প্লের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তদন্ত কমিটি অভিযুক্তদের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে এবং সন্তোষজনক জবাব না পেলে বাংলাদেশের দণ্ডবিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাহবুব আনামের বিরুদ্ধে বিল পাশ করাতে চাপ প্রয়োগসহ একাধিক অভিযোগ এনে দণ্ডবিধির ৪২০ ধারা (প্রতারণা), ৪০৬ ধারা (অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ) এবং ১০৯ ধারা (অপরাধে প্ররোচনা) অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধের উল্লেখ করা হয়েছে। বিসিবির সিইও নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন ও ফাহিম সিনহার বিরুদ্ধে দায়িত্ব ও কর্তৃত্বে অবহেলার অভিযোগ এনে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
 
তবে বিসিবি তাদের বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছে, এ ধরনের কোনো তদন্ত প্রতিবেদন এখনো বোর্ডের হাতে আসেনি। ফলে প্রচারিত তথ্যগুলো অনুমাননির্ভর ও অসম্পূর্ণ হতে পারে বলে তারা মনে করছে।

ইত্তেফাক/জেডএইচ