ফরিদপুর-২ (সালথা–নগরকান্দা) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু বলেছেন, দয়া করে ধানের শীষের সাথে কেউ মুনাফেকি করবেন না। আমার বাবা আপনাদের সাথে কখনো মুনাফেকি করেননি, আমিও করিনি। আপনারাও দয়া করে আমার সাথে, আমার মৃত বাবার সাথে, ধানের শীষের সাথে মুনাফেকি করবেন না।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের খোয়াড় গ্রামে স্থানীয় বিএনপির আয়োজনে এক নির্বাচনী উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, আল্লাহ না করুক, অন্য কোনো দল এখানে এলে আপনাদের ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যাবে। আপনাদের সন্তান ও নাতি-নাতনিদের জন্য একটি শক্তিশালী সালথা রেখে যেতে চাই। আসুন, আমরা সবাই একসাথে সেই লক্ষ্যে কাজ করি।
শামা ওবায়েদ বলেন, যারা আমার বাবার সঙ্গে ছিলেন, তারা দেখেছেন—তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন। এখনো এই এলাকা আমার বাবার নামে পরিচিত। একজন সন্তান হিসেবে বলতে চাই, গত ১৮ বছর ধরে আমি এই মাটি ছেড়ে যাইনি। আমি আমৃত্যু আপনাদের সাথেই থাকবো।
তিনি আরও বলেন, আগামী ১২ তারিখে যদি আমরা ভোটে নির্বাচিত হতে পারি, তাহলে এই এলাকার জন্য আরও বেশি কাজ করার সুযোগ পাব। যুবকদের জন্য শিক্ষার ব্যবস্থা ও খেলাধুলার ব্যবস্থা করতে হবে। এখানে নতুন স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। একটি উন্নত মানের হাসপাতাল তৈরি করতে হবে, যাতে আমাদের মা-বোনেরা ভালো চিকিৎসা পায়। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করতে হবে।
তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে প্রতিটি পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবে, কৃষকরা পাবে কৃষক কার্ড। এই এলাকায় উন্নয়নমূলক অসংখ্য কাজ করার সুযোগ আছে।
ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা একটি করে ভোট আমাকে কাজ করার সুযোগ করে দেবে। আর মাত্র তিন দিন সময় আছে। আপনারা গ্রামে গিয়ে সুন্দরভাবে ধানের শীষের বার্তা পৌঁছে দিবেন। ইনশাল্লাহ, বিজয়ের পর আবার দেখা হবে।
দলের অভ্যন্তরীণ বিভেদ সম্পর্কে তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি নিজেদের মধ্যে ভেদাভেদ বা রেষারেষি থাকে, তার ক্ষতি হবে ধানের শীষের, ক্ষতি হবে দলের। এর জন্য আগামী ৫–১০ বছর পস্তাতে হবে।
উপজেলা বিএনপির সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মো. জহুরুল হক ফকিরের মাতুব্বরের সভাপতিত্বে এবং ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মুরাদুর রহমান মুরাদের সঞ্চালনায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর রহমান, আটঘর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা সামাদ মাতুব্বর, আহাদ শেখ, কাওছার মাতুব্বর, কামরুজ্জামান আলী, যুবদল নেতা তৈয়বুর রহমানসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
