সাতক্ষীরায় অপরাধ দমনে মাঠে থাকবেন ১৪ বিচারক

নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটিতে চার জন

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৫০

সাতক্ষীরার চারটি সংসদীয় আসনে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করার লক্ষে নির্বাচনী অপরাধ দমনে মাঠে থাকবেন ১৪ জন বিচারক। এসব বিচারক দায়িত্ব পালনকালে কোনো নির্বাচনী অপরাধ নজরে এলে অভিযোগ ছাড়াই তাৎক্ষণিকভাবে সংক্ষিপ্ত বিচারে জেল জরিমানার আদেশ প্রদান করতে পারবেন।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে আইন ও বিচার বিভাগ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ১০ জন প্রথম শ্রেণির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে। তারা ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাঁচ দিন নির্বাচনী এলাকায় দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে নির্বাচন পূর্ব অনিয়ম অনুসন্ধান ও বিভিন্ন অপরাধের সংক্ষিপ্ত বিচার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আরো চার জন বিচারকের সমন্বয়ে একটি 'নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি' গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি গত ১৪ ডিসেম্বর থেকে কাজ করছে এবং নির্বাচনের ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এলাকায় তারা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন।

বিচার বিভাগ, সাতক্ষীরার একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, দায়িত্বপ্রাপ্ত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা নির্বাচনী অপরাধ আমলে নিলে তা দ্রুত সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে (সামারি ট্রায়াল) নিষ্পত্তি করবেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারকদের মধ্যে সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া ) আসনের কলারোয়া উপজেলায় দায়িত্বে থাকবেন অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিলাস মণ্ডল এবং তালা উপজেলায় থাকবেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট তনিমা মণ্ডল তনি।

সাতক্ষীরা-২ (সদর-দেবহাটা) আসনের সাতক্ষীরা পৌরসভা ও বাঁশদহা, কুশখালী, বৈকারী, ঘোনা, শিবপুর ও আলিপুর ইউনিয়নে দায়িত্ব পালন করবেন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অর্পিতা আক্তার ও মো. মেহেদী হাসান। দেবহাটা উপজেলায় দায়িত্বে থাকবেন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নাজনীন সুলতানা।

সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-কালীগঞ্জ) আসনের আশাশুনি উপজেলায় দায়িত্বে থাকবেন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শফিকুল ইসলাম। কালীগঞ্জ উপজেলার চম্পাফুল, ভাড়াশিমলা, তারালি ও নলতা ইউনিয়নে দায়িত্ব পালন করবেন ঝিনাইদহ জেলা জজ আদালতের সিভিল জজ আবীর ঘোষ এবং সাতক্ষীরা জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিভিল জজ লিটন দাশ। সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের ভূরুলিয়া, কাশীমারী, শ্যামনগর, নূরনগর, কৈখালী ও রমজাননগর ইউনিয়নে দায়িত্বে থাকবেন ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের বিচারক (যুগ্ম জেলা জজ) মো. মেহেদী হাসান। শ্যামনগরের অন্যান্য ইউনিয়নে দায়িত্ব পালন করবেন সিভিল জজ হাসানুল বান্না।

এছাড়া গঠিত ৪ সদস্যের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটিতে রয়েছেন সাতক্ষীরা-১ আসনের (তালা-কলারোয়া) জন্য যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ নয়ন বিশ্বাস, সাতক্ষীরা-২ (সদর-দেবহাটা) আসনের জন্য যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মো. এনামুল হক, সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি কালীগঞ্জ) আসনের জন্য ফরিদপুরের ভাঙ্গা চৌকি আদালতের সিনিয়র সিভিল জজ শফিকুল ইসলাম এবং সাতক্ষীরা-৪ আসনের শ্যামনগরের জন্য সিভিল জজ রোকেয়া বিনতে খালেক। কমিটি দায়িত্ব পালনকালে নির্বাচনপূর্ব কোনো অনিয়ম ঘটলে তা অনুসন্ধান করে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জেলা নির্বাচন অফিসারের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনে পাঠাবে। পাশাপাশি দায়িত্ব পালনকালে কোনো নির্বাচনী অপরাধ নজরে এলে কোনো ধরনের অভিযোগ ছাড়াই কমিটির সদস্যরা সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে তার বিচার করতে এবং জেল জরিমানা আরোপ করতে পারবেন।

ইত্তেফাক/এনএন