ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। ইতিমধ্যেই ভূমিধস বিজয় নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নির্বাচনের পরদিন গতকাল শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হলেও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে নগরজীবন, শুরু হয়েছে দূরপাল্লার বাস চলাচল। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশনায় চলাচল বন্ধ থাকলেও গতকাল রাজপথে গণপরিবহন চলাচল করতে দেখা গেছে। বিভিন্ন এলাকার শপিংমল, মার্কেট ও বিপণিবিতানও খুলতে দেখা গেছে। তবে গণপরিবহনে যাত্রী ও মার্কেটে ক্রেতার সংখ্যা ছিল খুবই কম।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক (সদর) এ এস এম আহম্মেদ খোকন জানিয়েছেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ায় রিকুইজিশন গাড়ি একদিন আগেই ছেড়ে দেওয়া শুরু হয়েছে। ফলে গণপরিবহন চলাচল শুরু হয়েছে। তবে ছুটির দিনের কারণে যাত্রীসংখ্যা খুব কম ছিল। তিনি বলেন, দূরপাল্লার বাসও চলাচল শুরু হয়েছে। তবে রাজধানীতে গণপরিবহন পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে দুই-এক দিন লাগবে।
ফেস্টুন ও পোস্টার অপসারণ: নির্বাচন শেষ হওয়ায় ঢাকা সিটি করপোরেশনের কর্মচারীরা গতকাল থেকেই রাস্তাঘাটে ঝুলিয়ে রাখা ব্যানার, বিলবোর্ড, ফেস্টুন ও পোস্টার অপসারণ শুরু করেছেন। তাদের পাশাপাশি নিম্ন আয়ের মানুষদেরও নিজেদের উদ্যোগে ব্যানার ও ফেস্টুন অপসারণ করে কাঠের টুকরো সংগ্রহ করতে দেখা গেছে। গতকাল রাজধানীর মুগদা, মতিঝিল, রমনা, নিউমার্কেট ও তেজগাঁওয়ের বিভিন্ন এলাকা এমন দৃশ্য দেখা গেছে।
নিউমার্কেট থানা-সংলগ্ন সড়কে সিটি করপোরেশনের কর্মচারীরা ঝুলিয়ে রাখা ব্যানার ও ফেস্টুন খুলে ফেলছেন। মনির নামে এক কর্মচারী জানান, যত দ্রুত সম্ভব এগুলো খুলে ফেলতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন।
পাশেই মধ্যবয়সি এক নারী ও ৮-১০ বছরের এক শিশুকে হাতুড়ি দিয়ে বড় বিলবোর্ড থেকে কাঠের টুকরো খুলে রাস্তার পাশে জমিয়ে রাখতে দেখা যায়। ঐ নারী জানান, কাঠগুলো সংগ্রহ করে তারা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করবেন।

