কোটি টাকার বালু পানিতে

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০১৯, ১৭:৪৯

শুকনো মৌসুমে কোনো খবর রাখেন না পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু বর্ষা এলেই টি-বাঁধ নিয়ে আতংকিত কর্তৃপক্ষ তোড়জোর শুরু করেন এটি রক্ষা করতে। বরাবরের ন্যায় এবারও একই তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যদিও রাজশাহী পয়েন্টে পদ্মার পানি এখনও বিপদসীমা অতিক্রম করেনি।

জানা গেছে, পুলিশ লাইনের সামনে দুই কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ করার পর থেকে গেলো দুই বছরে কেবল রক্ষণাবেক্ষণেই খরচ হয়েছে এক কোটি টাকা। এভাবে প্রতিবছরই বিপুল পরিমাণ টাকা গচ্চা যাচ্ছে, কিন্তু কাজের কাজ হচ্ছে না।

রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী জেলা পুলিশের লাইনের সামনে পদ্মায় নৌকায় করে ফেলা হচ্ছে বালুর বস্তা। কারণ, এ স্থানে এবারও নাকি আঘাত হানতে পারে পদ্মার প্রবলস্রোত! তাই ঠিকাদার নিয়োগ করে জিও বালুর বস্তা ফেলে পানির স্রোতের গতি কমানোর চেষ্টা চলছে। 

রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ সাহিদুল আলম বলেন, ২০১৭ সালে প্রায় দুই কোটি টাকা খরচ করে দেড়শ মিটার সংস্কার কাজ করা হয়েছে। কিন্তু এরপরও পিছু ছাড়েনি ভাঙন। এখানে ভাঙন ঠেকাতে গত দুই বছরে পানিতে প্রায় এক কোটি টাকার বালুর বস্তা ফেলা হয়েছে।

এদিকে, ব্রিটিশ আমলে নির্মিত রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ টি-বাঁধ। নানা কারণে এ বাঁধটিও এখন ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিবছর পদ্মায় পানি বাড়লেই ভাঙন ঠেকাতে তোড়জোর শুরু করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু স্থায়ী সংস্কার হচ্ছে না।

আরও পড়ুন: মেহেরপুরে ৫ দিনে ২২ ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত

এ বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও সরকারের পানি বিষয়ক টাস্কফোর্সের সদস্য ড. চৌধুরী সারোয়ার জাহান বলেন, সরকারের বহু প্রকল্পে বিপুল টাকা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। উন্নয়ন কাজ হচ্ছে। কিন্তু সে তুলনায় প্রকল্প গুলোর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় না। ফলে যখন জরুরি সংস্কারের দরকার পড়ে তখন থোক বরাদ্দ দিয়ে কাজ চালিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু স্থায়ী সংস্কার হয় না। এভাবে চলতে থাকায় সরকারের অর্থের অপচয়ও হচ্ছে। 

সৈয়দ সাহিদুল আলম আরও জানান, টি-বাঁধ সংস্কারের প্রায় সোয়া ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনও সাড়া দেয়নি মন্ত্রণালয়। টাকা পেলে স্থায়ী সংস্কারে হাত দেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/অনি