ইটনায় জামায়াত আমির

‘যদি কৃষক-শ্রমিকদের শ্রদ্ধার সঙ্গে ধারণ না করি, আমার বাবাকে অপমান করা হবে’

আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:৫০

কোনো ধনী পরিবারে জন্ম নেননি উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আল্লাহর রহমতে আমি একজন কৃষক পরিবারের সন্তান। তাই কৃষক-শ্রমিকদের সম্মান না করলে তা আমার বাবাকে অপমান করার শামিল হবে।’

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার শিমুলবাখ দক্ষিণহাটি এলাকায় জামায়াত সমর্থক শাহ আলমের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, ‘আমি দুই শ্রেণির মানুষের সান্নিধ্যে বিশেষ আনন্দ পাই। একদল হলো নিষ্পাপ শিশু, যাদের কাছে গেলে ফেরেশতার সান্নিধ্যে থাকার অনুভূতি হয়। আরেকদল হলো দিনমজুর ও শ্রমজীবী মানুষ, যারা রক্ত-ঘাম ঝরিয়ে পরিবারের মুখে হালাল খাবার তুলে দেন।’

তিনি বলেন, ‘কৃষক-শ্রমিকরা কঠোর পরিশ্রম করে হালাল রুজি উপার্জন করেন। তাদের ঘামের গন্ধ আমার কাছে আতরের মতো মনে হয়। আমি দেখেছি,আমার মতো কিছু লোক বিশেষ বিশেষ কিছু সিজনে এই গরিব মানুষের সঙ্গে হাত মেলায়, একটু যখন তাদের থেকে আড়াল হয়ে যান, তখন রুমাল বা টিস্যু পেপারে হাত মোছে। আর আমি ওই ঘামগুলো এনে আমার মুখে মুছি। আমি তাদের কলিজার ভেতর থেকে শ্রদ্ধা করি। এই লোকগুলো একজন সম্পদশালীর চাইতেও পাঁচশ বছর আগে আল্লাহর জান্নাতে ঢুকবে।’

স্মরণসভায় তিনি শাহ আলমের পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘আমি যতদিন সংগঠনের দায়িত্বে আছি, ততদিন এই দায়িত্ব পালন করব। ভবিষ্যতে যারা দায়িত্বে আসবেন, তারাও তা পালন করবেন বলে আশা রাখি।’

ইটনার স্মরণ সভা শেষে তিনি কটিয়াদী সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভা থেকে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত আব্দুস ছালামের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে নিকলী উপজেলার ছাতিরচরে যাওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে সকাল ৮টার দিকে তিনি সড়কপথে কিশোরগঞ্জ শহরে পৌঁছান।

উল্লেখ্য, গত ৩ ফেব্রুয়ারি কটিয়াদী সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। জনসভা শেষে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় আব্দুস ছালাম (৬০) নামে এক কর্মী নিহত হন।

এছাড়া ৮ ফেব্রুয়ারি ইটনা মিনি স্টেডিয়ামে আয়োজিত আরেকটি নির্বাচনি সমাবেশে যাওয়ার পথে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শাহ আলম (৫০) নামে এক সমর্থকের মৃত্যু হয়।

ইত্তেফাক/এটিএন