সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম পে স্কেল বা জাতীয় বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত উচ্চপর্যায়ের সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটি মূলত জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন ২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি ২০২৫-এর দাখিল করা প্রতিবেদনগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। প্রথম বৈঠকে কমিটির সদস্যরা নতুন বেতন কাঠামোর খুঁটিনাটি, আর্থিক সংস্থান এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা করেছেন।
এর আগে গত ২১ জানুয়ারি সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ২৩ সদস্যের নবম জাতীয় বেতন কমিশন তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দেয়। নির্ধারিত সময়ের তিন সপ্তাহ আগেই জমা দেওয়া এই প্রতিবেদনে সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড় ধরনের বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত কাঠামোতে সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ১:৯.৪ থেকে কমিয়ে ১:৮ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা কর্মচারীদের মধ্যে বেতন বৈষম্য কমাতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, নতুন এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে সরকারের অতিরিক্ত ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। প্রতিবেদনে ২০টি গ্রেড বহাল রেখে মূল বেতনের পাশাপাশি স্বাস্থ্যবীমা প্রবর্তন, পেনশন ব্যবস্থার সংস্কার এবং সরকারি কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড পুনর্গঠনের মতো সৃজনশীল প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা প্রতিবেদনটি গ্রহণ করে সন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন এবং জানিয়েছিলেন যে, দীর্ঘ সময় ধরে মানুষ এই পরিবর্তনের জন্য অপেক্ষা করছে। সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি এখন এই প্রস্তাবগুলোর আর্থিক প্রভাব এবং ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছে, যা শেষ করে তারা দ্রুতই সরকারের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে।
তবে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও মুদ্রাস্ফীতির বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর সম্প্রতি সতর্ক করেছেন যে, রাজস্ব আদায় না বাড়িয়ে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হলে সরকারের ওপর ঋণের বোঝা বাড়তে পারে।
বর্তমানে দেশে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগী রয়েছেন, যাঁদের জন্য সরকারের বার্ষিক ব্যয় হয় প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির পরবর্তী সভাগুলোতে এসব আর্থিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কীভাবে একটি ভারসাম্যপূর্ণ বেতন কাঠামো গেজেট আকারে প্রকাশ করা যায়, সেটিই হবে মূল লক্ষ্য।
