৮ বছর আগে এক যুবদল নেতাকে চড়-থাপ্পড় ও বেপরোয়াভাবে কিল-ঘুসি ঘটনার প্রতিশোধ হিসাবে সেই ইউপি চেয়ারম্যানকে চড়, কিল-ঘুসি ও মারধর করেন যুবদল নেতা। এই ঘটনায় নাটোরের সিংড়ায় শামীম হোসেন নামের সেই যুবদল নেতাকে বহিষ্কার হয়েছেন। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় সহদপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়া স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তার বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি সিংড়া উপজেলার ছাতারদীঘি ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা গেছে, দলীয় শৃংখলাভঙ্গ ও দলের নীতি, আদর্শ ও সংহতি পরিপন্থি আচরণের কারণে যুবদল নেতা শামীম হোসেনকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন। বহিষ্কার নেতাদের কোনো ধরণের অপকর্মের দায়-দায়িত্ব দল নেবে না এবং যুবদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ওই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে।
জানা যায়, নাটোরের সিংড়া উপজেলার কালিগঞ্জ বাজার এলাকায় শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় এ মারধরের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ইউপি চেয়ারম্যান আলতাব হোসেন আকন্দকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তিনি উপজেলার ১১ নম্বর ছাতারদীঘি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সহসভাপতি। যুবদল নেতা শামীম হোসেন একই ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলার ছাতারদীঘি ইউনিয়নের কালিগঞ্জ বাজারে যুবদল নেতা শামীম হোসেনকে চেয়ারম্যানের নির্দেশে তার লোকজন চড় ও কিল-ঘুসি মারেন। আট বছর পর আবার সেই একই বাজারে চেয়ারম্যান আলতাব হোসেনকে চড় ও কিল-ঘুসি মারেন শামীম । ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শামীম জানান, ২০১৭ সালে ছাতারদীঘি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনে আলতাব হোসেন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে তাকে চড় ও বেপরোয়াভাবে কিল-ঘুসি মেরেছিলেন। ওই নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করায় তাকে মার খেতে হয়েছিল। তাই চড়-থাপ্পড়ের বদলে শুধু চড়-থাপ্পড় দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় আলতাব হোসেন জানান, তিনি কখনো তাকে মারধর করেননি। তবে ২০১৭ সালে ওই বাজারে অনুষ্ঠিত একটি ইসলামী জলসার পাশে যুবদল নেতা শামীমসহ কয়েকজন খিচুড়ির আয়োজন করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই সময়ে হট্টগোল হয়েছিল।
সিংড়া থানার ওসি আ.স.ম আবদুন নূর বলেন, বিষয়টি শুনেছি। এই ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ আসেনি।
