হাতিয়ায় নারী ধর্ষণের অভিযোগ যাচাইয়ে মেডিকেল বোর্ড গঠন

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩:৫২

নোয়াখালীর হাতিয়ায় ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ করা এক নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পুলিশের অনুরোধে সোমবার এ বোর্ড গঠন করা হয়। এর আগে নারীর মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে হাতিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক চিকিৎসক মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ধর্ষণের অভিযোগে কোনো ভুক্তভোগী ভর্তি হলেও পুলিশের চাহিদাপত্র ছাড়া আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা যায় না। পুলিশ জিডির আলোকে রিকুইজিশন পাঠালে তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়।

বোর্ডে রয়েছেন প্রসূতিবিশেষজ্ঞ শিরিন সুলতানা এবং চিকিৎসক ফাতেমা জোয়ান মুনিয়া ও তাহমিনা আক্তার। সোমবার প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। ভর্তি হওয়ার দিন সংরক্ষিত আলামতও পরীক্ষার জন্য মেডিকেল কলেজের পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। ডিএনএ পরীক্ষার জন্যও নমুনা নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর মতামতসহ চূড়ান্ত রিপোর্ট দেওয়া হবে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

হাতিয়া থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাইফুল আলম বলেন, এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, ভুক্তভোগী সময় নিচ্ছেন। তার নিরাপত্তায় হাসপাতালে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

শনিবার বেলা দুইটার দিকে ওই নারী প্রথমে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরে বিকেল পাঁচটার দিকে জরুরি বিভাগে গিয়ে অভিযোগ করেন, আগের রাত ১১টার দিকে নিজ এলাকায় তিনি ধর্ষণের শিকার হন। তার ভাষ্য, দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে তিন ব্যক্তি স্বামীকে একটি কক্ষে আটকে রেখে তাকে ধর্ষণ করেন।

অভিযোগে নাম থাকা ব্যক্তি বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, ওই রাতে এলাকায় মারামারির ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন এবং এর প্রমাণও দেখিয়েছেন।

এদিকে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ঘটনাটিকে ‘মিথ্যা প্রচার’ ও ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, একটি সমসাময়িক ঘটনাকে ধর্ষণের ঘটনায় রূপান্তরের চেষ্টা করা হচ্ছে এবং বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ।

ইত্তেফাক/এনএন