হাওর থেকে লন্ডন প্রবাসীর পোড়া মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭:৩২

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের বাসিন্দা ও লন্ডন প্রবাসী বোরহান উদ্দিন শফিক হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। ‘ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের’ জেরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে ভাষ্য পুলিশের। তবে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিলেট জেলা পুলিশের মিডিয়া শাখা থেকে এসব তথ্য জানানো হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন-সাব্বির আহমেদ (২১), সৈয়দ মেহরাজ উজ সামাদ ওরফে শোভন (২০), আসামি তাহিরুল হক (২০)।

পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার মামলার প্রধান আসামি জকিগঞ্জের বাসিন্দা সাব্বির আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় শনিবার দুই নম্বর আসামি সৈয়দ মেহরাজ উজ সামাদ ওরফে শোভনকে নারায়ণগঞ্জের পূর্বাচল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। একইদিন অপর আসামি তাহিরুল হককে তার শ্বশুর বাড়ি লালাগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তাহিরুলের কাছ থেকে নিহত শফির ব্যবহৃত সেই মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এর আগে গত ২৮ জানুয়ারি দেশে ফিরেন জগন্নাথপুর পৌরশহরের হবিবপুর আশিঘর এলাকার মৃত সমসু মিয়ার ছেলে বোরহান উদ্দিন শফি। এরপর হঠাৎ নিখোঁজ হন তিনি। নিখোঁজের কয়েকদিন পর ৩ ফেব্রুয়ারি জকিগঞ্জের সুলতানপুর ইউনিয়নের মাসেরচক হাওর বিলপাড় থেকে লন্ডন প্রবাসী শফির আগুনে পোড়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার দুদিন পর এই ঘটনায় জকিগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি মামলাটি পুলিশের জেলা গোয়েন্দা শাখায় হস্তান্তর করা হয়। 

এদিকে মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, মরদেহটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আগুনে পোড়ানোর স্পষ্ট চিহ্ন এবং গলায় দড়ি প্যাঁচানো অবস্থায় ছিল। মরদেহের পাশে একটি লবণের প্যাকেটও পাওয়া যায়, যা ঘটনাটিকে আরও রহস্যজনক করে তুলেছে। পুলিশের ধারণা, হত্যার পর পরিচয় গোপন ও আলামত নষ্ট করার উদ্দেশ্যে মরদেহে আগুন দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।

ইত্তেফাক/এপি