মেঘনায় অবৈধ বালু উত্তোলনে বাধা, গুলিবিদ্ধ ৬

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০:২৯

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করায় অস্ত্রধারীদের গুলিতে অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়নের চরলাপাং গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

গুলিবিদ্ধরা হলেন নুরুল আমীন (৪২), রউফ মিয়া (৪৫), সফর মিয়া (৫০), সিয়াম হোসেন (১৬), জসিম উদ্দিন (৪০) ও ইব্রাহিম (৩০)। তাদের প্রথমে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল–এ ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, তারা সবাই ছররা গুলিতে আহত হয়েছেন এবং কারও অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়।

নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান জানান, ছয়জন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চারজনকে জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চরলাপাং গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত মেঘনা নদী থেকে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র অর্ধশতাধিক খননযন্ত্র দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। এতে নদীতীরবর্তী গ্রামগুলোতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঝে মাঝে প্রশাসনের অভিযান হলেও কয়েক দিন পর আবার বালু উত্তোলন শুরু হয়। এমনকি বালু উত্তোলনকারীরা কৃষিজমির ফসলও জোর করে কেটে নিয়ে যায়।

রোববার সকালে গ্রামবাসী একত্র হয়ে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ জানালে ২০ থেকে ৩০ জন অস্ত্রধারী স্পিডবোটে এসে হামলা চালায়। এ সময় ছয়জন গুলিবিদ্ধ ছাড়াও আরও কয়েকজন আহত হন।

ঘটনার পর নবীনগর থানা পুলিশ–এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) পিয়াস বসাকের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। তিনজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার তথ্য তিনি নিশ্চিত করেছেন।

নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, নাসিরাবাদ গ্রামে একটি বৈধ বালুমহাল ইজারা থাকলেও চরলাপাংয়ে কোনো ইজারা নেই। হামলার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে এবং নরসিংদী জেলার সঙ্গে সমন্বয় করে যৌথ অভিযান চালানো হবে।

এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের সংসদ সদস্য এম এ মান্নান বলেন, বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং এ ধরনের সন্ত্রাস কঠোরভাবে দমন করা হবে।

ইত্তেফাক/এমএএম