মেক্সিকোর আকাশে এখন অস্থিরতার ঘন মেঘ। সেই মেঘের ছায়া এসে পড়েছে বিশ্ব ফুটবলের বড় মঞ্চেও। দেশ জুড়ে সহিংসতায় ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক দেশ হিসেবে মেক্সিকোর প্রস্তুতি নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু জালিস্কো অঙ্গরাজ্য। সেখানে সামরিক বাহিনীর এক সমন্বিত অভিযানে আটক করা হয় মাদক জগতের অন্যতম কুখ্যাত নেতা নেমেসিও ওসেগুয়েরা সেরভান্তেসকে।
মেক্সিকোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হওয়ার পর বিমানযোগে স্থানান্তরের সময় তার মৃত্যু হয়। এই অভিযানের পরই দেশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা। বিভিন্ন অঞ্চলে অগ্নিসংযোগ, অবরোধ ও সশস্ত্র হামলার খবর পাওয়া যায়। মেক্সিকোতে সহিংসতার এই নতুন ঢেউ কেবল জননিরাপত্তাকেই নয়, ক্রীড়াঙ্গনকেও গভীর অনিশ্চয়তায় ফেলেছে।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনে দেশটির সক্ষমতা নিয়েও শুরু হয় বিতর্ক। ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশ হিসেবে মেক্সিকো ইতিমধ্যেই প্রস্তুতির পথে। কিন্তু সাম্প্রতিক সহিংসতা দেশটির ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুনর্মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। আবার অনেকে বলছেন, বিচ্ছিন্ন সহিংসতা দিয়ে একটি দেশের বিশ্বকাপ আয়োজনের যোগ্যতা বিচার করা উচিত নয়।
ফিফার অবস্থান নিয়েও বাড়ছে প্রশ্ন। ২০২৬ বিশ্বকাপের আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ এবং মূল টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে মেক্সিকো কতটা প্রস্তুত, সেটি এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজরে। সহিংসতার সাম্প্রতিক বিস্তার বিশ্ব ফুটবল প্রশাসনের জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অস্থিরতার মাঝেই আলোচনায় এসেছে একটি সম্ভাব্য প্রীতি ম্যাচ। পরিকল্পনা ছিল মেক্সিকো জাতীয় দলের বিপক্ষে পর্তুগালের অল-স্টার দলকে নিয়ে একটি ম্যাচ আয়োজনের। এই ম্যাচে পর্তুগীজ মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সম্ভাব্য উপস্থিতি ঘিরে ছিল ব্যাপক উন্মাদনা। ম্যাচটি হওয়ার সম্ভাব্য ভেন্যু ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকা।
তবে সাম্প্রতিক সহিংসতা সেই পরিকল্পনাকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বাতিল হয়নি, আবার নিশ্চিতও করা হয়নি। মেক্সিকো বহুবার বড় ক্রীড়া আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। ইতিহাস বলে, ফুটবল এই দেশের সংস্কৃতির গভীরে প্রোথিত। তবু নিরাপত্তা সংকট উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। নিরাপত্তা মূল্যায়ন, ভেন্যু প্রস্তুতি এবং আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থার অবস্থানের ওপর নির্ভর করছে পরবর্তী সিদ্ধান্ত।
