পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী বলেছেন, খাল খনন কর্মসূচি শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, এটি একটি বিপ্লব ও আন্দোলন। এটি সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যে উন্নয়নধারা সূচনা করেছিলেন, বর্তমান সরকারের খাল খনন উদ্যোগ তারই ধারাবাহিকতা।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা খালে চলমান খনন ও দখলমুক্ত কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি এসব কথা বলেন।
পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, খাল রক্ষা কেবল সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি নাগরিকদেরও সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ। খাল রক্ষা ও পুনঃখনন কার্যক্রম টেকসই করতে জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। প্রশাসনিক উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলে এ ধরনের উন্নয়ন কার্যক্রম দীর্ঘস্থায়ী হবে না। খালে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘদিন খাল খনন না হওয়ায় শুধু কেরানীগঞ্জ নয়, সারা দেশেই সেচ ব্যবস্থায় ঘাটতি ও জলাবদ্ধতা বেড়েছে। এতে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে এবং জনজীবনে দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। খাল খনন ও পুনঃখননের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষি সেচব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নৌপথ সচল রাখতে সরকার কাজ করছে। খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করতে বর্জ্য অপসারণ ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ সময় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শুভাঢ্যা ও আটিবাজার খাল খনন বাস্তবায়নে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রথম ধাপের খনন শেষে দ্বিতীয় ধাপে শুয়ারেজ লাইন স্থাপন ও আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রয়োজনে প্রকল্পের পরিধি বাড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধান নিশ্চিত করা হবে। আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে স্থানীয়দের সহযোগিতা প্রয়োজন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ কে এম শাহাবুদ্দিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উমর ফারুক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আফতাব আহমেদ, সহকারী কমিশনার (ভূমি-মডেল) জান্নাতুল মাওয়া, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি নিপুন রায় চৌধুরী, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা তাইবুর রহমানসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

