পাবনা

হাটের দরপত্র দাখিলকে কেন্দ্র করে জামায়াত নেতাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১:৩৮

পাবনার চাটমোহরে হাটের দরপত্র দাখিলকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের হাতে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মওলানা মো. হাবিবুর রহমান লাঞ্ছিত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী আছগার।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার ছিল চাটমোহর উপজেলার বিভিন্ন হাটের দরপত্র দাখিলের শেষ দিন। কয়েকটি হাটের দর সমঝোতার মাধ্যমে নির্ধারণ করে বিএনপি নেতাকর্মীরা। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত দরপত্র ছাড়া অন্য কেউ যাতে দরপত্র জমা দিতে না পারেন, সেজন্য সকাল থেকেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের কর্মীরা।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ছাইকোলা হাটের দরপত্র দাখিল করতে আসেন ছাইকোলা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মো. আশরাফুল ইসলাম। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মওলানা মো. হাবিবুর রহমান। দরপত্র নির্ধারিত বাক্সে জমা দেওয়ার পর বিষয়টি জানতে পেরে বিএনপি কর্মীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দোতলা কার্যালয় থেকে মওলানা হাবিবুর রহমানকে টেনে-হিঁচড়ে নিচে নামিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়।

লাঞ্ছিত জামায়াত নেতা হাবিবুর রহমান বলেন, ‘হাটের ইজারা বা দরপত্র দাখিলের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমি অন্য কাজে সেখানে গিয়েছিলাম। এ অবস্থায় ক্ষমতাসীন দলের লোকজন আমার ওপর হামলা করে।’ তিনি দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

চাটমোহর থানার ওসি গোলাম সরোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি পাবনায় আছি। শুনেছি দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। এখনও কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে এই ঘটনার প্রতিবাদে বিকেল ৪টায় চাটমোহরের সাড়রা গ্রামে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেন পাবনা-৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী আছগার। তিনি ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ‘যিনি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন তিনি একজন শিক্ষক, জাতি গড়ার কারিগর। একজন শিক্ষকের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ জাতি আশা করে না।’

ঘটনার প্রতিবাদে বিকেল ৫টায় স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন।

চাটমোহর পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ জিয়ারুল হক সিন্টু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য আমরা দুঃখিত। তবে বিএনপির পদ পদবিধারী কোনো নেতা বা কর্মী এই ঘটনায় সম্পৃক্ত নয়।’

ইত্তেফাক/এসএ/এপি