মেসির হৃদয়ে কেবলই আন্তোনেলা

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭:৪৬

লিওনেল মেসি। মাঠে তিনি কিংবদন্তি। কিন্তু মাঠের বাইরে তিনি একজন স্বামী, একজন বাবা, একজন সাধারণ মানুষ। এবার ইন্টার মায়ামি তারকা নিজেই জানালেন কীভাবে শৈশবের ভালোবাসা আন্তোনেলা রোকুজ্জোকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তার ভাষায়, সেটি ছিল 'রোমান্টিক' এক মুহূর্ত। মেসি ও আন্তোনেলার পরিচয় আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরে। তখন মেসির বয়স মাত্র পাঁচ। শৈশবের সেই বন্ধুত্ব সময়ের সঙ্গে রূপ নেয় ভালোবাসায়।

দীর্ঘ পথচলার পর ২০১৭ সালে রোজারিওতেই জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে বিয়ে করেন তারা। এখন তিন সন্তান-থিয়াগো, মাতেও ও চিরোকে নিয়ে তাদের সংসার মায়ামিতে। রোজারিও থেকে বার্সেলোনা, সেখান থেকে পিএসজি, এখন ইন্টার মায়ামি। মেসির ক্যারিয়ারের সঙ্গে তাল মিলিয়েই পৃথিবী ঘুরেছে তাদের পরিবার।

Get a Kick Out of Leo Messi and Wife Antonela Roccuzzo's Love Story

আর্জেন্টিনার সাবেক গোলরক্ষক নাহুয়েল গুজমানের সঞ্চালনায় পডকাস্ট 'মিরো দে আত্রাস'-এ মেসি বলেন, তখন তিনি ও রোকুজ্জো বহু বছর ধরে একসঙ্গে ছিলেন। তাদের দুই সন্তান থিয়াগো ও মাতেও ইতিমধ্যেই জন্মেছে। এক রাতে বার্সেলোনায় একটি হোটেলে ডিনারে যান তারা। সেখানেই তিনি প্রস্তাব দেন। মেসির কথায়, এটি হুট করে নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। এমন নয় যে, একদিন হঠাৎ বললেন, চল বিয়ে করি। বিষয়টি ছিল স্বাভাবিক ও প্রত্যাশিত। সম্পর্ক তখন এমন এক জায়গায় পৌঁছেছিল, যেখানে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি শুধু সময়ের অপেক্ষা। তবু তিনি সেটিকে রোমান্টিকভাবে উপস্থাপন করতে চেয়েছিলেন। মূলত বিয়ের তারিখ ঠিক করার মধ্য দিয়েই সেই প্রতিশ্রুতি সম্পূর্ণ হয়।

পডকাস্টে মেসি জানান, ভাষার সামনে দাঁড়িয়ে কখনো কখনো নিজেকে 'অজ্ঞ' মনে হয় তার। মেসি জানান, আর্জেন্টিনায় স্কুল পর্যায়ের পড়াশোনা শেষ করেছিলেন তিনি। ফাইনাল পরীক্ষাও দিয়েছিলেন। এরপর স্পেনে পাড়ি। ফুটবলই হয়ে ওঠে জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। নিওয়েলস ওন্ড বয়েজ থেকে বার্সেলোনা। তারপর ইতিহাস। সেই পথে পড়াশোনা আর এগোয়নি। তখন মনে হয়নি এর প্রয়োজন আছে। এখন সেই সিদ্ধান্তই তাকে ভাবায়। 

তার ভাষায়, ছোটবেলায় ইংরেজি শেখার সময় ছিল। কিন্তু তিনি শেখেননি। সেটিকে তিনি নিজের বোকামি বলেই উল্লেখ করেছেন। এখন তিনি সন্তানদের নিয়মিত বলেন, সুশিক্ষা খুব জরুরি। পড়াশোনা করতে হবে। তিনি স্বীকার করেন, ভাষাগত সীমাবদ্ধতা মাঝে মাঝে তাকে অস্বস্তিতে ফেলে।

ব্যক্তিগত অনুতাপের পাশাপাশি পডকাস্টে উঠে এসেছে আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রসঙ্গও। মেসি একটি দলের নাম স্পষ্ট করে বলেছেন, যাদের মুখোমুখি তিনি টুর্নামেন্টের শুরুতে হতে চান না। সেই দল মেক্সিকো। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে মেক্সিকোর বিপক্ষে ২-০ গোলের জয় ছিল আর্জেন্টিনার জন্য বাঁচা-মরার লড়াই। সৌদি আরবের কাছে অপ্রত্যাশিত হারের পর আরেকটি পরাজয় মানেই বিদায় ছিল নিশ্চিত। 

মেসি স্বীকার করেন, তারা ভয় নিয়েই মাঠে নেমেছিলেন। আগেভাগে বিদায়ের শঙ্কা দলকে মানসিকভাবে চাপে রেখেছিল। যদিও মুখোমুখি পরিসংখ্যানে এগিয়ে আর্জেন্টিনা, তবু মেক্সিকোকে সবসময়ই কঠিন প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখেন তিনি। বল দখলে রাখা, ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং শৃঙ্খল কৌশল প্রয়োগে তারা পারদর্শী। বড় দলকেও চাপে ফেলতে পারে। প্রসঙ্গত, আসন্ন আসরের গ্রুপপর্বে দুই দলের দেখা হচ্ছে না। গ্রুপ 'এ'-তে রয়েছে মেক্সিকো। অন্যদিকে গ্রুপ 'জে'-তে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার সঙ্গী অস্ট্রিয়া, আলজেরিয়া ও জর্ডান।

ইত্তেফাক/জেডএইচ