ফেল করা বিষয়ে পাস করানোর দাবিতে কলেজ গেটে তালা

আপডেট : ০১ মার্চ ২০২৬, ২১:১০

এইচএসসি নির্বাচনী পরীক্ষায় ফেল করা বিষয়গুলোতে পাস করিয়ে দেওয়ার দাবিতে চট্টগ্রামের মিরসরাই কলেজের মূল গেটে তালা লাগিয়ে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। এসময় কলেজ শিক্ষক, কলেজ মসজিদে আগত মুসল্লিরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

রোববার (১ মার্চ) ২টা নাগাদ এই ঘটনা ঘটেছে। পরে মিরসরাই থানা পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের দাবি অনেক শিক্ষার্থী ৬ থেকে ৭ বিষয়ে ফেল করলেও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের তদবিরে অনেককে পাস করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

মিরসরাই কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালে এইচএসসি নির্বাচনী পরীক্ষায় ৩৬৫ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। ব্যবসায় শিক্ষা, মানবিক ও বিজ্ঞান বিভাগে সব বিষয়ে ২৮ জন শিক্ষার্থী পাশ করেছে। প্রথম বিবেচনায় ৪০ জন, দ্বিতীয় বিবেচনায় ৩৮ জন ও বিশেষ বিবেচনায় ৭৩ জন শিক্ষার্থীসহ মোট ১৫১ জন শিক্ষার্থীকে পাশ দেওয়া হয়। রোববার দুপুরে ফেল করা শিক্ষার্থীরা কলেজ ক্যাম্পাসে এসে হট্টগোল সৃষ্টি করে এবং কলেজের প্রধান গেইটে তালা লাগিয়ে দেয়।

জাহেদুল ইসলাম নামের এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, আমরা কলেজে এসে আমাদের ফলাফল দেখতে চেয়েছি, কিন্তু আমাদেরকে ফলাফল দেখতে দিচ্ছে না। স্যারেরা আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন এবং একজন শিক্ষার্থীকে মারধর করেন। অনেক শিক্ষার্থী ৬-৭ বিষয়ে ফেল করলেও রাজনৈতিক নেতাদের সুপারিশে তাদের পাস করিয়ে দেওয়া হয়েছে। এসব কারণে আমরা কলেজের গেটে তালা দিয়েছি।

নুসরাত জাহান প্রেমা নামের আরেক ছাত্রী বলেন, আমাদের প্রতি স্যারেরা অন্যায় করছেন। আমরা অনেকে ২-৩ বিষয়ে ফেল করেছি। কিন্তু আমাদের ফলাফল দেখতে দেওয়া হচ্ছে না। এখন আমাদের দাবি একটাই এখানে আমরা যারা আন্দোলন করতে এসেছি আমাদের সবাইকে পাস করিয়ে দিতে হবে।

মিরসরাই কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মো. রেজাউল করিম বলেন, কিছু ছাত্র নামধারী, যারা পড়াশোনা করে না। তারা কলেজে এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। গত কয়েক বছর ধরে কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হওয়ায় এবার জিবি মিটিং ও শিক্ষকরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, পরীক্ষায় ভালো করতে হবে। সে চেষ্টার আলোকে দুটি বিষয়ে ৩০ নম্বর পেয়েছে তাকে পাশ দিয়েছি। ইংরেজি দুই বিষয়ে ৩০ এবং আইসিটি ১৪ নম্বর পেলে পাশ দিয়েছি। ফলাফল ঘোষণার পর যারা নিয়মিত কলেজে আসে না, পড়াশোনা করে না, বাইরে আড্ডা দেয় তারা কলেজে এসে ঝামেলা করেছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয়কে অবগত করেছি। তিনি আইনি সহায়তা দিয়েছেন।

রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপে কিছু শিক্ষার্থীকে পাশ করিয়ে দেওয়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, এটা মোটেও সত্য নয়। মূলত ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে যারা নির্দিষ্ট নম্বর পেয়েছে তাদের পাশ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। কারণ বোর্ড পরীক্ষায় এই দুই বিষয়ে বেশি ফেল করে শিক্ষার্থীরা।

মিরসরাই থানার সেকেন্ড অফিসার শরীফ উদ্দিন বলেন, কিছু অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থী কলেজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে গেইটে তালা লাগিয়ে দেয়। খবর পেয়ে আমাদের টিম গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে এবং গেইটের তালা খুলে দেওয়া হয়েছে।

ইত্তেফাক/এপি