মার্কিন দূতাবাসসহ কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তা জোরদার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট : ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮:৪৫

চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ঢাকার ডিপ্লোম্যাটিক এরিয়ায়, বিশেষ করে মার্কিন দূতাবাস ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সোমবার (২ মার্চ) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাঁর কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন–এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তা জোরদারে নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ, সন্ত্রাসবাদ দমন, কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তা জোরদারে এসপিইএআর প্রোগ্রাম এবং ইলেকট্রনিক ন্যাশনালিটি ভেরিফিকেশন (ইএনভি) বাস্তবায়নসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

সাক্ষাতের শুরুতে মন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং সন্ত্রাসবাদ দমন ও নিরাপত্তা খাতে দীর্ঘদিন ধরে সহযোগিতা করে আসছে। জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী। ঢাকার মার্কিন দূতাবাসসহ পুরো কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তা সুসংহত করতে এসপিইএআর প্রোগ্রাম বাস্তবায়নে দ্রুত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রয়োজন রয়েছে; তা না হলে সংশ্লিষ্ট তহবিল অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সম্মতি নিয়ে দ্রুত প্রোগ্রামটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। রাষ্ট্রদূত এ সময় মন্ত্রীকে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান।

এছাড়া রাষ্ট্রদূত বলেন, অবৈধ অভিবাসন রোধে বাংলাদেশে ইএনভি প্রোগ্রাম চালু করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। এটি বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় বাংলাদেশ ‘গ্রিন জোন’-এ অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। তিনি আরও জানান, ২০১০ সাল থেকে সন্ত্রাস দমন কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৩০ হাজার পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে। তবে অবসর ও বদলিজনিত কারণে এর পূর্ণ সুফল পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে সভা বা কর্মশালা আয়োজনের নির্দেশ দেন।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান এবং যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ইত্তেফাক/এমএএম