ইসরায়েলে হামলার পর হিজবুল্লাহর ওপর নিষেধাজ্ঞা লেবাননের

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৪:১২

ইসরায়েলে হামলার পর লেবাননের অভ্যন্তরে হিজবুল্লাহর সব ধরনের সামরিক কার্যক্রমের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম। একই সঙ্গে সশস্ত্র এই ইসলামি রাজনৈতিক গোষ্ঠীটির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডও উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। 

সোমবার (২ মার্চ) রাজধানী বৈরুতের প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদে অনুষ্ঠিত এক জরুরি মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বাইরে অন্য যেকোনো শক্তির তৎপরতা বন্ধের বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করা হয়।

মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম সরকারের এই কঠোর অবস্থানের কথা বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দেন। তিনি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন যে, ‘আজ থেকে লেবাননের সরকারি সেনাবাহিনী ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সব ধরনের সামরিক তৎপরতা নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। 

মন্ত্রিসভা বৈধ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বাইরে যেকোনো সামরিক অভিযান কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারণ যুদ্ধ ও শান্তি বিষয়ক যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার একক ইখতিয়ার কেবল রাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করে।’ প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে এটি পরিষ্কার যে, হিজবুল্লাহর সমান্তরাল সামরিক শক্তি আর বরদাশত করবে না লেবানন সরকার।

এই নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের হাত ধরে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ১ মার্চ থেকে হিজবুল্লাহ ইরানের সমর্থনে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে শুরু করে। 

এটি ছিল ২০২৪ সালের নভেম্বরে সম্পাদিত ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতি চুক্তির সরাসরি লঙ্ঘন। হিজবুল্লাহর এই পদক্ষেপকে প্রথম থেকেই ‘দায়িত্বহীন’ বলে সমালোচনা করে আসছিলেন প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম। তাঁর মতে, গোষ্ঠীটির এমন আচরণ পুরো লেবাননকে আবারও এক ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, লেবানন সরকারের এই সাহসী পদক্ষেপ হিজবুল্লাহর দীর্ঘদিনের একচেটিয়া ক্ষমতার মূলে বড় ধরনের আঘাত। তবে এই নিষেধাজ্ঞা হিজবুল্লাহ কীভাবে গ্রহণ করবে এবং লেবাননের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এর কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে শঙ্কা রয়ে গেছে। 

গত কয়েক দশক ধরে হিজবুল্লাহ লেবাননের রাজনীতি ও সামরিক ব্যবস্থায় একটি অপরিহার্য শক্তিতে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকারের এই কঠোর অবস্থান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে লেবাননের সার্বভৌমত্ব প্রমাণের একটি বড় চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্র: সংবাদ সংস্থা এএফপি

ইত্তেফাক/টিএইচ