কমে গেছে পাথর বিক্রি, উৎপাদন বন্ধের আশঙ্কায় মধ্যপাড়া পাথরখনি

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২৬, ১৩:৪৩

দিনাজপুরের মধ্যপাড়া পাথরখনির ভূগর্ভ থেকে পাথর উত্তোলন স্বাভাবিক থাকলেও বিক্রির অভাব ও মজুদ করার জায়গা সংকটের কারণে পাথর উত্তোলন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এতে মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড (এমজিএমসিএল) এবং খনির উৎপাদন ও উন্নয়ন কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া ট্রাস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি) উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।

খনি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে পাথর ইয়ার্ডে মজুদ রয়েছে ১৪ লাখ ৪৬ হাজার মেট্রিক টন। যা ধারণক্ষমতার প্রায় পূর্ণ। নিয়মিত উত্তোলনের ফলে মজুদ দিন দিন বাড়ছে, কিন্তু চাহিদানুযায়ী বিক্রি হচ্ছে না। ফলে নতুন উত্তোলিত পাথর রাখার জায়গার অভাবে পাথর উত্তোলন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হতে পারে।

খনির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উৎপাদন বন্ধ হলে যন্ত্রপাতি ও জনবল ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের বিরূপ প্রভাব পড়বে। ধারাবাহিক উৎপাদন ব্যাহত হলে আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকিও বেড়ে যাবে। এছাড়া সরকারের রাজস্ব আয় ও খনির দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক সক্ষমতা হুমকির মুখে পড়তে পারে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া ট্রাস্ট কনসোর্টিয়াম পাথরখনির উৎপাদন ও উন্নয়ন দায়িত্ব নেওয়ার পর খনিটি কিছুদিনের মধ্যেই লাভের মুখ দেখতে শুরু করে। উৎপাদন বৃদ্ধি ও ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। তবে বাজারে বিক্রি কমে যাওয়াসহ সরকারি-বেসরকারি বড় প্রকল্পে পাথর ক্রয়ের ধীরগতির কারণে সংকট দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলেন, সরকারি অবকাঠামো প্রকল্পে মধ্যপাড়ার খনির পাথরের ব্যবহার বাড়ালে এই সংকট কাটানো সম্ভব। এতে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপও কমবে। আন্তঃমন্ত্রণালয়গুলোতে সমন্বয় ও ইতিবাচক পদক্ষেপ জরুরি।

খনিতে কর্মরত শ্রমিক ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পাথরখনি থেকে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান নির্ভরশীল। উৎপাদন বন্ধ হলে অনেক মানুষ বেকার হয়ে পড়বেন।

এমজিএমসিএল ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী ডি. এম. জোবায়েদ হোসেন বলেন, সরকারি প্রকল্পে মধ্যপাড়া খনির পাথর ব্যবহারে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি। বিষয়টি উচ্চপর্যায়কে জানানো হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের ইতিবাচক পদক্ষেপের অপেক্ষা রয়েছে।

ইত্তেফাক/এএইচপি