‘যুদ্ধ থামাতে যোগাযোগ করেছে’, ট্রাম্পের দাবি সম্পূর্ণ নাকচ ইরানের

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২৬, ১০:০৩

ইরান যুদ্ধ বন্ধের জন্য চুক্তির আকুতি জানিয়ে বারবার যোগাযোগ করছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তেহরান এই দাবিকে সম্পূর্ণ নাকচ করে দিলেও ট্রাম্প তার অবস্থানে অনড়। এমনকি ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা কে হবেন, সেই নির্বাচনেও নিজের সংশ্লিষ্টতার কথা জানিয়ে নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছেন তিনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট’ ও মার্কিন গণমাধ্যম ‘একিওস’-এর প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

গত বৃহস্পতিবার রাতে হোয়াইট হাউসে আর্জেন্টাইন ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি ও তার ক্লাব ইন্টার মিয়ামিকে দেওয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। উপস্থিত দর্শকদের উদ্দেশে তিনি দাবি করেন, ইরানের সামরিক শক্তি বর্তমানে খাদের কিনারে। তিনি বলেন, তাদের বিমান বিধ্বংসী ব্যবস্থা শেষ হয়ে গেছে। এখন তাদের কোনো কার্যকর বিমান বাহিনী বা আকাশ প্রতিরক্ষা নেই। তাদের অধিকাংশ বিমান ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র এবং লঞ্চারের প্রায় ৬০ থেকে ৬৪ শতাংশ এরই মধ্যে ধ্বংসপ্রাপ্ত। শত্রু হিসেবে ইরান শক্তিশালী হলেও বর্তমানে তারা দিশেহারা হয়ে চুক্তির জন্য 'কল' দিচ্ছে। তবে কিছুটা তাচ্ছিল্যের সুরে ট্রাম্প বলেন, আমি তাদের বলেছি, আপনারা অনেক দেরি করে ফেলেছেন। এখন আমরা তাদের চেয়েও বেশি যুদ্ধ করতে চাই।

এদিকে, যুদ্ধ ও চুক্তির আলোচনার বাইরেও ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নজিরবিহীন হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা কে হবেন, তা নির্ধারণে তার ব্যক্তিগত সংশ্লিষ্টতা থাকা উচিত। তেহরান যদি ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা না করে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উত্তরসূরি নির্বাচন করে, তবে তা হবে স্রেফ সময়ের অপচয়।

খামেনির মেজো ছেলে মোজতাবা খামেনিকে পরবর্তী নেতা হিসেবে ভাবা হচ্ছে— এমন প্রসঙ্গের অবতারণা করে ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দেন, মোজতাবাকে নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হলে তিনি তা কোনোভাবেই মেনে নেবেন না।

ইত্তেফাক/কেএইচ