দুপুরে জরিমানা, সন্ধ্যায় সেই দোকানের দই দিয়েই উপজেলা প্রশাসনের ইফতার

আপডেট : ১১ মার্চ ২০২৬, ০৪:৩১

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় এক আশ্চর্যজনক ঘটনার জন্ম দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। দুপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও অনিয়মের অভিযোগে যে মিষ্টির দোকানকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়, পরে আবার সেই একই দোকান থেকেই উপজেলা প্রশাসনের ইফতার মাহফিলের জন্য দই কেনার ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সোমবার (৯ মার্চ) উপজেলার বাগাট বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাগাট বাজারের রাজকুমার মিষ্টান্ন ভান্ডারের কারখানায় দুপুরের দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. এরফানুর রহমান। অভিযানের সময় কারখানায় ব্যবহৃত তেলে ময়লা, মিষ্টির পুরনো সিরা এবং পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর পাওয়ার অভিযোগে দোকানটিকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

তবে একই দিন সন্ধ্যায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলের জন্য ওই দোকান থেকেই ১৩৫ কাপ দই কেনা হয়। ইফতারের বিভিন্ন খাবারের সঙ্গে সেই দইও পরিবেশন করা হয় বলে জানা গেছে।

রাজকুমার মিষ্টান্ন ভান্ডারের মালিক সুকুমার ঘোষ বলেন, দুপুরের দিকে কারখানায় নতুন তেলের ব্যারেল ছিল, যেটি তখনও খোলা হয়নি। ভ্রাম্যমাণ আদালত গিয়ে ব্যারেলের মুখ নিজেরাই খুলে বলেন তেলে ময়লা আছে। এছাড়া চিনির সিরা কয়েকদিন আগের বলে অভিযোগ করা হয়। আমি তখন কারখানায় ছিলাম না। পরে বিকালে উপজেলা প্রশাসনের ইফতার মাহফিলের জন্য আমাদের দোকান থেকেই ১৩৫ কাপ দই কেনা হয়েছে এবং তারা দামও পরিশোধ করেছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. এরফানুর রহমান বলেন, রাজকুমার মিষ্টান্ন ভান্ডারের কারখানায় অভিযান চালিয়ে তেলে ময়লা ও পুরনো সিরা পাওয়া যায়, পরিবেশও অপরিচ্ছন্ন ছিল। এসব কারণে ভোক্তা অধিকার আইনে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ইফতারের বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের ব্যাপার।

মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রওশনা জাহান বলেন, একটি দোকানের সবকিছু খারাপ হয় না। যেসব বিষয়ে অনিয়ম পাওয়া গেছে সেসব কারণে জরিমানা করা হয়েছে। সবকিছু খারাপ হলে দোকানটি সিলগালা করে দেওয়া হতো, তা করা হয়নি।

এ বিষয়ে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. কামরুল হাসান মোল্লা বলেন, দুপুরে জরিমানা করে বিকেলে একই দোকান থেকে দই নেওয়ার বিষয়টি কিছুটা সাংঘর্ষিক। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

 
ইত্তেফাক/এসএএস