ডিপো থেকে তেল উত্তোলন বন্ধের আলটিমেটাম সিলেটের পাম্প মালিকদের

আপডেট : ১১ মার্চ ২০২৬, ০২:২৯

সিলেটে পেট্রোল পাম্পে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দিলেও জ্বালানি বিপণন নীতি সংশোধন না হলে ডিপো থেকে তেল উত্তোলন বন্ধ রাখার আলটিমেটাম দিয়েছেন পাম্প মালিকরা।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিলেট বিভাগীয় শাখার নেতারা এই ঘোষণা দেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, গত কয়েক দিনে সিলেটের বিভিন্ন পাম্পে মালিক ও শ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ সোমবার সন্ধ্যায় নগরীর চৌকিদেখী এলাকার উত্তরা পেট্রোল পাম্পে তেল না পেয়ে এক কর্মীকে ছুরিকাঘাত করা হয়। এর প্রতিবাদে এবং নিরাপত্তার দাবিতে মঙ্গলবার এক শিফট কর্মবিরতি পালন করেন শ্রমিকরা। তবে বিকেলে পুনরায় তেল বিক্রি শুরু হলেও শ্রমিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিপণন নীতিমালার অসঙ্গতি তুলে ধরে নেতারা বলেন, বিপণন কোম্পানিগুলো দৈনিক কোটা বেঁধে দেওয়ায় পাম্পগুলো চাহিদার তুলনায় অনেক কম তেল পাচ্ছে। অথচ সিলেটে গ্যাস ফিল্ডের কন্ডেনসেট থেকে পর্যাপ্ত অকটেন ও পেট্রোল উৎপাদিত হয় এবং ডিপোতে মজুতও রয়েছে। ভুল নীতিমালার কারণে সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় সাধারণ মানুষ পাম্প মালিকদের ওপর ক্ষুব্ধ হচ্ছে, যার ফলে সংঘর্ষের মতো ঘটনা ঘটছে।

পাম্প মালিকরা স্পষ্ট জানান, তারা কোনো ধরনের মজুতদারির সঙ্গে জড়িত নন। তারা দাবি করেন, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) দ্রুত নীতিমালা সংশোধন করে মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতার ভিত্তিতে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার মাধ্যমে তেল বণ্টনের ব্যবস্থা করতে হবে।

সিলেট বিভাগে প্রতিদিন প্রায় আট থেকে ১০ লাখ লিটার ডিজেল এবং সাড়ে তিন লাখ লিটার পেট্রোল ও অকটেনের চাহিদা রয়েছে। ব্যবসায়ীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, নীতিমালা দ্রুত সংশোধন করা না হলে পাম্প খোলা থাকলেও ডিপো থেকে তেল উত্তোলন বন্ধ রাখা হবে। বিষয়টি ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসককে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে এবং বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ইত্তেফাক/এনএন