ভাইকে হত্যার পর অটোরিকশা ভাঙারি দোকানে বিক্রি, গ্রেপ্তার ৪

আপডেট : ১২ মার্চ ২০২৬, ১৬:২৩

পাবনার চাটমোহরে ইমরান হোসেন (১৭) নামের এক কিশোরের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে উপজেলার গুনাইগাছা ইউনিয়নের জালেশ্বর মন্ডলপাড়ায় বড়াল নদের পাড়ে থেকে ওই কিশোরের উদ্ধার করা হয়।

নিহত ইমরান উপজেলার গুনাইগাছা ইউনিয়নের শুকুরভাঙ্গা গ্রামের মৃত ওমর আলীর ছেলে।

এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে চার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তারা হলেন- নিহত ইমরানের চাচাতো ভাই শুকুরভাঙ্গা গ্রামের হানিফ আলীর ছেলে হেলাল উদ্দিন (৪২), একই গ্রামের কুরবান আলীর ছেলে সুমন (১৮), ভাঙ্গুড়া উপজেলার উত্তর মেন্দা গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে ইজাজুল ইসলাম (২০) ও চাটমোহর উপজেলার চরপাড়া গ্রামের সোলায়মান আলীর ছেলে ভাঙারি ব্যবসায়ী আল আমিন (২৫)।

এলাকাবাসী ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক সুমন ও হেলাল গত বুধবার ইমরানের অটোভ্যান ভাড়া করে বিভিন্নস্থানে ঘুরে বেড়ায়। এরপর রাতে অটোভ্যানসহ ইমরানকে জালেশ্বর মন্ডলপাড়া এলাকায় নিয়ে যান তারা। সেখানে অটোভ্যান ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে ইমরানের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ইমরানের গলায় গামছা পেঁচিয়ে ও মাথায় আঘাত করে হত্যার পর সেখানে ফেলে যান।

পরে সেদিন রাতেই অটোভ্যানটি তারা সুমনের ভগ্নীপতি ভাঙারি ব্যবসায়ী আল আমিনের কাছে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করে।

এদিকে ইমরানের পরিবারের স্বজনরা জানান, সেদিন ইমরান বাড়ি ফিরে না আসায় তার স্বজনরা হেলাল ও সুমনের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে চাই। পরে অসংলগ্ন উত্তরে স্থানীয়রা তাদের গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারদের দেওয়া স্বীকারোক্তি ও তথ্যের ভিত্তিতে অটোরিকশা চালক ইমরানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যে ভিত্তিতে ভাঙারি ব্যবসায়ী ইজাজুল ও আল আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং উদ্ধার করা হয় অটোভ্যান। আল আমিন ও ইজাজুল অটোরিকশার ব্যাটারি সেদিন রাতেই জহুরুলের কাছে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করে। জহুরুল এখনও পলাতক।

চাটমোহর থানার ওসি গোলাম সরোয়ার হোসেন বলেন, হত্যাকারীরা ইমরানকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা পর মৃত্যু নিশ্চিত করতে মাথায় আঘাত করেছে।পরে সেখানেই তার মরদেহ ফেলে রেখে অটোভ্যান নিয়ে চলে যায়। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহতের মা হালিমা খাতুন থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন।

ইত্তেফাক/এপি