ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচারের সময় গত ১৬ দিনে পৃথক পৃথক ঘটনায় ৬ নারীকে উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। এসব ঘটনায় ৪৮ জনকে আসামি করে চারটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে এখন পর্যন্ত দুজনকে আটকের তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।
গত ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত মোট ১৬ দিনে মহেশপুরের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে এসব নারীদের উদ্ধার করা হয়।
মহেশপুর থানা সূত্রে জানা যায়, গত ৯ মার্চ মহেশপুর উপজেলার শ্যামকুড় সীমান্তে দিয়ে ভারতে পাচারের সময় যশোর জেলার কোতয়ালী থানার জামরুলতলা গ্রামের এক নারীকে পুলিশ উদ্ধার করে। ওই ঘটনায় ১৬ জনকে আসামি করে মহেশপুর থানার একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে আলমগীর বিশ্বাস নামে এক যুবককে আটক করা হয়। দুজন নারীকে পাচারের চেষ্টাকালে সীমান্তবর্তী এলাকায় থেকে উদ্ধার করে বিজিবির টহল দল। এ ঘটনায় মহেশপুর থানায় পৃথক একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এরই ধারাহিকতায় গত ৩ মার্চ তারিখে ঢাকার ফকিরাপুল এলাকার বাসিন্দা ময়নাকে (ছদ্মনাম) উপজেলা কাজিরবেড় ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রাম থেকে ৯৯৯ কল পেয়ে উদ্ধার করে পুলিশ। তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় পাচারচক্র। এ বিষয়ে মহেশপুর থানার ৪ মার্চ তারিখে ১০ জনকে আসামি করে একটি মামলা হয়েছে।
তাছাড়া গত ২১ ফেব্রুয়ারি তারিখে উপজেলার মাটিলা সীমান্ত থেকে ভিকটিম আসিয়া (ছদ্মনাম) নামে এক নারীকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে ছমির নামে একজনকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় গত ২২ ফেব্রুয়ারি ৯ জনকে আসামি করে পৃথক আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়।
মহেশপুর থানার ওসি বলেন, ‘ভিকটিমদের বর্ণনা মতে মানবপাচার আইনে চারটি পৃথক মামলা হয়েছে। প্রায় অর্ধশত আসামির মধ্যে দুজনকে জনকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের আটকের চেষ্টা চলছে।
এদিকে মহেশপুর ৫৮-বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম বলেন, সীমান্তে পাচাররোধে সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত আছে। পাচারসহ যেকোনো ধরনের অপরাধ দমনে বিজিবি বদ্ধপরিকর।
