বগুড়া ও রংপুরে হঠাৎ বৃষ্টি, আলুর ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২৬, ০৯:০৫

আলু উত্তোলনের ভরা মৌসুমে গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার ভোরে হঠাৎ ভারী বৃষ্টিতে বগুড়া ও রংপুরে বিভিন্ন এলাকার আলুখেত পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে জমিতে থাকা আলু পচে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। এদিকে সৈয়দপুরে হঠাৎ বৃষ্টিতে প্রায় ৫০ লাখ কাঁচা ইট নষ্ট হয়ে গেছে।

শিবগঞ্জ (বগুড়া) সংবাদদাতা জানান, হঠাৎ বৃষ্টিতে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আলু উত্তোলনের ঠিক আগ মুহূর্তে এ বৃষ্টিপাত হওয়ায় জমিতে পানি জমে আলু উত্তোলন ব্যাহত হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ১৮ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের আলুর চাষ করা হয়েছিল। এরই মধ্যে অধিকাংশ জমির আলু উত্তোলন সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট খেতের আলু পরিপক্ব হওয়ায় কৃষকরা উত্তোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিছু কিছু খেতের আলু উত্তোলন করে জমিতেই রাখা ছিল। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার ভোরে আকস্মিক বৃষ্টিপাতে অনেক জমিতে পানি জমে যায় এবং বেশ কিছু আলুখেত পানির নিচে তলিয়ে যায়।

গঙ্গাচড়া (রংপুর) সংবাদদাতা জানান, গত বুধবার ভোর রাতে ভারী বর্ষণে গঙ্গাচড়ায় কৃষকের আলুর খেত তলিয়ে যায়। কৃষকরা খেত থেকে পানি নিষ্কাশনের জন্য চেষ্টা করছেন। কৃষকরা আশঙ্কা করছেন পানি দুই-তিন দিন জমিতে থাকলে আলু পচে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কিসামত হাবু গ্রামের কৃষক হেলাল মিয়া জানান, তার ৪৪ শতক জমির আল তলিয়ে গেছে। একই গ্রামের মোনজাব আলী বলেন, তার ৬৬ শতক জমির আলুখেতে পানি। এফতারুল মেম্বারের প্রায় এক একর জমির উত্তোলনকৃত আলু তলিয়ে গেছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুবেল হোসেন বলেন,  পানি চার-পাঁচ দিন জমে থাকলে পচে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই  আল দ্রুত হারভেস্ট করতে হবে।

সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা জানান, সৈয়দপুরে হঠাৎ বৃষ্টিতে ২২টি ইটভাটার প্রায় ৫০ লাখ তৈরি করে রাখা কাঁচা ইট বিনষ্ট হয়েছে। এতে করে ইটভাটা মালিকরা ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে বৃষ্টির কারণে ঐ ইটগুলো নষ্ট হয়।

সৈয়দপুর উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের খিয়ারজুম্মা এলাকায় ইটভাটা মালিক মো. সোহেল রানার ইটভাটায় তৈরি করে রাখা ৪ লাখ কাঁচা ইট হঠাৎ বৃষ্টিতে গলে যায়। তিনি বলেন, কিছু বুঝে উঠার আগে এ ধরনের বৃষ্টিপাতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে তার।

সৈয়দপুর শহরের পাশে কামারপুকুর ইউনিয়নের ১০টি ইটভাটায় বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রতিটি ইটভাটায় হঠাৎ এ বৃষ্টিতে দুই থেকে আড়াই লাখ কাঁচা ইট গলে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। কয়েক দিনের মধ্যে এসব ইট পোড়ানোর কথা ছিল।

ইটভাটা মালিকদের একটি সূত্র জানায়, জেলায় প্রায় ৫৩টি ইটভাটায় এ বৃষ্টির কারণে ক্ষতির মুখে পড়েছেন ইটভাটা মালিকরা। এ কারণে বাজারে ইটের দাম বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন তারা।

ইত্তেফাক/এএম