গুরুতর অসুস্থ হয়ে রাজধানীর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে হাসপাতালে গিয়ে মির্জা আব্বাসের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং চিকিৎসকদের কাছ থেকে মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নেন তিনি।
হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের আখতার হোসেন বলেন, ‘মির্জা আব্বাস বর্তমানে একটি সার্জারির প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী রাজনীতির একজন লড়াকু সৈনিক। দেশের দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক সংগ্রামে তার ও বিএনপির অবদান অনস্বীকার্য। একজন সংসদ সদস্য হিসেবে আমরা আশা করি তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে সংসদে ফিরে আসবেন এবং দেশের স্বার্থে গঠনমূলক ভূমিকা রাখবেন।’
নির্বাচনকালীন বাগ্বিতণ্ডা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সমালোচনা প্রসঙ্গে এনসিপির এই সদস্যসচিব বলেন, ‘রাজনীতিতে আলোচনা-সমালোচনা এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে বাদানুবাদ থাকবেই। তবে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা হলো একটি সৌহার্দপূর্ণ রাজনীতি। দেশের স্বার্থে গঠনমূলক সিদ্ধান্ত নিতে যেন এমন কোনো বৈপরীত্য তৈরি না হয়, যা আমাদের ঐক্যে বাধা দেয়। এনসিপি সবসময় সৌহার্দের রাজনীতি চর্চা করতে চায়।’
সংসদীয় কার্যক্রমে ভিন্নমতের প্রসঙ্গে আখতার হোসেন বলেন, আমরা এবং বিএনপি একইসঙ্গে সংসদে গিয়েছি। তবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে আমাদের শপথ নেয়া এবং তাদের শপথ না নেয়ার মতো কিছু পার্থক্যের জায়গা রয়েছে। এই ভিন্নতা নিয়ে আমরা কথা বলছি, তবে শেষ পর্যন্ত জনগণই সবকিছুর নির্ধারক। আমরা চাই না বাংলাদেশের রাজনীতিতে আর কোনো ‘হাসিনা মডেল’ ফিরে আসুক, যেখানে রাজনৈতিক অধিকার হরণ করা হয়েছিল। একটি মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখতে এনসিপি তার ভূমিকা পালন করে যাবে।
এর আগে, গত বুধবার ইফতারির সময়ে অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারালে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় মির্জা আব্বাসকে।

