মন্ত্রণালয়ে এসে ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহণ করলেন না মন্ত্রী আযম খান

আপডেট : ১৫ মার্চ ২০২৬, ১৪:০২

মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম কর্মদিবসে ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহণ না করে ব্যতিক্রমী বার্তা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। রোববার (১৫ মার্চ) রাজধানীর পরিবহন পুল ভবনে মন্ত্রণালয়ে প্রথমবার অফিস করতে এসে তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেওয়া ফুল গ্রহণ না করে কৃতজ্ঞতা জানান।

মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নবনিযুক্ত মন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে কর্মকর্তারা ফুল দিতে চাইলে তিনি বিনয়ের সঙ্গে তা গ্রহণ থেকে বিরত থাকেন। এ সময় তিনি অপ্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা ও ব্যয় এড়িয়ে সাশ্রয়ী দৃষ্টান্ত স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের স্থলাভিষিক্ত হয়ে গত ১২ মার্চ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন টাঙ্গাইল–৮ আসনের সংসদ সদস্য আহমেদ আযম খান। পরে তাকে এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহণ না করার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চান না যে আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে ফুল বিনিময়ে অপ্রয়োজনীয় অর্থ ব্যয় হোক। বিভিন্ন সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশে কেবল আনুষ্ঠানিকতা পালনের জন্য বছরে প্রায় ১৮ কোটি টাকা ফুল কেনায় ব্যয় হয়। তিনি এটিকে অপ্রয়োজনীয় ও বিলাসী ব্যয় হিসেবে উল্লেখ করেন এবং এ ধরনের খরচ কমিয়ে বাস্তবমুখী ও সাশ্রয়ী উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।

পরে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধ সর্বশ্রেষ্ঠ ও গৌরবময় অর্জন। এ চেতনা ধারণ করেই মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধ শুধু অতীতের একটি ঘটনা নয়; এটি জাতির আত্মপরিচয়, গৌরব ও মূল্যবোধের প্রতীক। তাই মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ সমুন্নত রেখে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম আরও কার্যকর ও গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইসরাত চৌধুরীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

ইত্তেফাক/কেএইচ