রাঙামাটিতে জ্বালানি তেলের সংকটে বন্ধ হয়ে গেছে যাত্রীবাহী স্পিডবোট সার্ভিস। আশঙ্কা দেখা দিয়েছে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচলেও। সরেজমিনে রোববার (১৫ মার্চ) সকালে স্পিডবোট ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, জ্বালানি তেল (অকটেন) না পাওয়ায় স্পিডবোট সার্ভিস বন্ধ রয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন বিভিন্ন উপজেলাগামী মানুষ।
এ বিষয়ে লাইন ম্যান মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘রাঙামাটির বিভিন্ন উপজেলার উদ্দেশ্যে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৫টি যাত্রীবাহী স্পিডবোট চলাচল করে। এই কয়েকদিন কোনোভাবে বোট সেবা সচল রাখলেও অকটেন না পাওয়ায় আজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। যাত্রীরা এসে ঘুরে যাচ্ছেন। প্রশাসন নজর না দিলে ঈদে ঘরমুখো মানুষের কষ্টের শেষ থাকবে না।’
অন্যদিকে ডিজেল স্বল্পতার কারণে জেলার বিভিন্ন নৌরুটে লঞ্চ চলাচল নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে লঞ্চ মালিক সমিতি।
লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি মো. মঈনুদ্দিন সেলিম বলেন, ‘আমাদের প্রতিদিন ১২০০ লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হয়। এই সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমরা জেলা প্রশাসনের কাছে একটি দরখাস্ত করেছি। জেলা প্রশাসক আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। যদি সরবরাহ স্বাভাবিক না হয় তাহলে বিপাকে পড়বেন ঈদে ঘরমুখো মানুষ।’
রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, ‘খুচরা দোকানগুলোতে তেল সরবরাহ বন্ধ থাকায় কিছুটা সমস্যা তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে ভোক্তা পর্যায়ে মজুদ করার অভিযোগ শুনেছি। এটি নিরসনে মোবাইল কোট কাজ করছে।’
এদিকে সরকার ডিপু থেকে রেশনিং উঠিয়ে দিলেও রাঙামাটিতে তার প্রভাব এখনো দেখা যায়নি। রাঙামাটির ছয়টি উপজেলা বাঘাইছড়ি, বরকল, জুরাছড়ি, বিলাইছড়ি, লংগদু ও নানিয়ারচরে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নৌপথ।
অপর দিকে শহরের ফিলিং স্টেশন ও পাম্পে নেই জ্বালানি তেল। উপজেলাগুলোতে তেলের সংকট থাকায় কৃষি জমিতে সেচের কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
