হাওরে বাঁধের কাজ শেষ হলেও মেলেনি টাকা, বিপাকে পিআইসি সদস্যরা

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০২৬, ১১:১২

নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার হাওর এলাকায় বোরো ফসলরক্ষা বাঁধ সংস্কারের কাজ শতভাগ সম্পন্ন হলেও বরাদ্দের টাকা না পাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সদস্যরা। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও বরাদ্দের মাত্র ৬ থেকে ৭ শতাংশ অর্থ ছাড় করায় আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগে শ্রমিক ও পাওনাদারদের পাওনা পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। ব্যক্তিগত তহবিল ও ঋণ করে কাজ শেষ করলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে অর্থ ছাড়ে ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-এর ‘কাজের বিনিময়ে টাকা’ (কাবিটা) প্রকল্পের আওতায় খালিয়াজুরী উপজেলায় ২০ কোটি ২৬ লাখ ৬৭ হাজার টাকা ব্যয়ে ফসলরক্ষা বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু হয়। পাউবোর কারিগরি সহায়তায় ১৪৩টি পিআইসির মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন হাওরে প্রায় ৯১ কিলোমিটার দীর্ঘ বাঁধ সংস্কার করা হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারির সময়সীমা পেরিয়ে মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহেই উপজেলার সব প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পাউবো কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার প্রায় ২০ হাজার হেক্টর বোরো জমির ফসল আগাম বন্যার হাত থেকে রক্ষা করতে এবং প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে এই বাঁধগুলো সংস্কার করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী কাজ শুরুর পর অন্তত চার কিস্তিতে টাকা পরিশোধের কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত মাত্র এক কিস্তি—মোট বরাদ্দের প্রায় ৬ থেকে ৭ শতাংশ—অর্থ ছাড় করা হয়েছে। কাজ শেষ হওয়ার প্রায় দেড় মাস পার হলেও পরবর্তী কিস্তির টাকা না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পিআইসি সভাপতিরা।

খালিয়াজুরী সদরের ২ নম্বর পোল্ডারের পিআইসি সভাপতি এনামুল হক ছোটন বলেন, আমার প্রকল্পের বরাদ্দ ১৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। শতভাগ কাজ শেষ করেছি, কিন্তু হাতে পেয়েছি মাত্র ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা। ঈদের আগে টাকা না পেলে শ্রমিক ও পাওনাদারদের পাওনা মেটাব কীভাবে? আমরা এখন পাওনাদারদের চাপে আছি।

বিষয়টিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ স্বাধীন বলেন, শ্রমিক ও পিআইসি সদস্যদের ন্যায্য পাওনা দ্রুত পরিশোধ করা উচিত। ঈদ সামনে রেখে এই অর্থসংকট তাদের পরিবারে দুর্ভোগ ডেকে আনতে পারে।

এ বিষয়ে নেত্রকোনা পাউবোর মোহনগঞ্জ উপ-বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আবুল কাসেম জানান, বরাদ্দের কিছু অর্থ কেন্দ্র থেকে ছাড় হয়েছে। তবে সেই অর্থ ঈদের পর সুবিধাজনক সময়ে সংশ্লিষ্ট পিআইসির ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে।

অন্যদিকে, খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কাবিটা স্কিম বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি নাদির হোসেন শামীম বলেন, ফসল রক্ষার স্বার্থে বাঁধ সংস্কারের কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল এবং কাজ সফলভাবে শেষ হয়েছে। তবে অর্থ ছাড়ের বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে তিনি জানান।

ইত্তেফাক/এএইচপি