মধ্যপ্রাচ্যে সহায়তায় ট্রাম্পের কাছে অর্থ-প্রযুক্তি চায় জেলেনস্কি

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০২৬, ১৩:৪৭

ইরানি কামিকাজে ড্রোন মোকাবিলায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে কারিগরি সহায়তা প্রদানের বিনিময়ে অর্থ ও উন্নত প্রযুক্তি দাবি করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। কিয়েভ ইতিমধ্যে এই অঞ্চলে বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি। 

রোববার (১৫ মার্চ) কিয়েভে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জেলেনস্কি জানান, ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কীভাবে কাজ করে এবং এর কার্যকারিতা মূল্যায়নের জন্য তিনটি বিশেষজ্ঞ দল বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করছে। 

এর আগে তিনি কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব এবং জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে এই দলগুলো পাঠানোর কথা উল্লেখ করেছিলেন। জেলেনস্কি স্পষ্ট করে বলেছেন যে, এটি সরাসরি কোনো সামরিক অভিযানে অংশগ্রহণের বিষয় নয় এবং ইউক্রেন ইরানের সঙ্গে কোনো যুদ্ধে লিপ্ত হতে চায় না।

জেলেনস্কির মতে, পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী ড্রোন চুক্তি নিয়ে আলোচনা হতে পারে, তবে সহায়তার বিনিময়ে ইউক্রেন ঠিক কী পাবে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। বর্তমানে কিয়েভের জন্য বিদেশি তহবিল এবং উন্নত প্রযুক্তি উভয়ই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ইরানের শাহেদ ড্রোন প্রতিহত করতে প্রচুর পরিমাণে দামী আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে, যেখানে ইউক্রেন প্রতি রাতে সস্তা ড্রোন বা জ্যামিং সরঞ্জাম ব্যবহার করে সফলভাবে রুশ ড্রোন ভূপাতিত করছে। এই অভিজ্ঞতাই এখন ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকার অনেক দেশ ইউক্রেনের কাছ থেকে পাওয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জেলেনস্কি দাবি করেন।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি মন্তব্যের প্রেক্ষিতে কিছুটা হতাশা প্রকাশ করেছেন জেলেনস্কি। ট্রাম্প বলেছেন যে ড্রোন ভূপাতিত করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ইউক্রেনের কোনো সহায়তার প্রয়োজন নেই। 

জেলেনস্কি জানান, তিনি ওয়াশিংটনের সঙ্গে ৩৫ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি বড় ড্রোন চুক্তি সই করতে চেয়েছিলেন, যা নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে চেষ্টা চলছে। তবে কেন ওয়াশিংটন এই চুক্তি সই করতে গড়িমসি করছে তা তার কাছে স্পষ্ট নয় এবং শেষ পর্যন্ত এটি আদৌ সম্পন্ন হবে কি না তা নিয়ে তিনি এখন সন্দিহান। এ ছাড়া কিয়েভের অনুমোদন ছাড়া ড্রোন বিরোধী সরঞ্জাম বিক্রির চেষ্টা করা কিছু ইউক্রেনীয় কোম্পানি ও বিদেশি সরকারের সমালোচনাও করেছেন তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের ফলে ইউক্রেনের নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের সরবরাহে টান পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জেলেনস্কি। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র যেন ইউক্রেন ইস্যু থেকে সরে না যায়। দুই সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের ফলে আরব আমিরাতে নির্ধারিত ইউক্রেন-রাশিয়া শান্তি আলোচনাও স্থগিত হয়ে গেছে। 

জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনার প্রস্তাব দিলেও রুশ পক্ষ সেখানে বসতে রাজি নয়। অন্যদিকে যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনী বিশ্বাস করে রাশিয়ার পরিকল্পিত বসন্তকালীন অভিযান ইতিমধ্যে ব্যর্থ হয়েছে, কারণ তারা যেভাবে পরিকল্পনা করেছিল সেভাবে অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি।

সূত্র: রয়টার্স

ইত্তেফাক/টিএইচ