২০১৮ সালে সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের মুনাফা ৩২৫ কোটি টাকা

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০১৯, ১৩:৩২

২০১৮ সালের চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী (নিরীক্ষিত) সাধারণ বীমা কর্পোরেশন ৩২৫ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করেছে যা ২০১৭ সালের তুলনায় ৮ শতাংশ বেশি। এছাড়া রাষ্ট্রীয় এ প্রতিষ্ঠান ২০১৭ সালে প্রায় ২০৩ কোটি টাকার বীমা দাবি পরিশোধ করেছে।

এসময় সরকারি কোষাগারে ৪০ কোটি টাকার নন-ট্যাক্স রাজস্ব জমা দিয়েছে এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে ৬৫ কোটি অগ্রিম আয়কর এবং ৬৪ কোটি টাকার ভ্যাট প্রদান করেছে। সাধারণ বীমা কর্পোরেশন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

কর্পোরেশনের জনসংযোগ বিভাগের ব্যবস্থাপক সুপ্রতিভ হালদার জানান, দেশের অর্থনীতিতে ঝুঁকি মোকাবেলার মাধ্যমে অনন্য ভূমিকা রাখছে এই কর্পোরেশন। বীমা দাবি পরিশোধ না করার মতো অভিযোগ নেই বললেই চলে। এমনটি ৯০ দিনের মধ্যে বীমা দাবীর নিষ্পত্তির হার ৩৫ শতাংশে এ উন্নীত করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

জানা গেছে, প্রথমবারের মত সাধারণ বীমা কর্পোরেশন বর্তমান সরকারের মেগা প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ (বিএস-১)-এর ইন-অরবিট ইনস্যুরেন্স গ্রহণ করেছে। এ প্রকল্পের বীমা অংকের পরিমাণ ১৪০ মিলিয়ন ইউরো।

এছাড়া মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সিঙ্গেল লাইন ডুয়েল গেজ রেলপথ দোহাজারী থেকে কক্সবাজার, পদ্মা ব্রিজ রেল লিংক, রূপপুর নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট, বঙ্গবন্ধু টানেল ও মেট্রো রেল প্রকল্পগুলোর বীমা ঝুঁকি গ্রহণ করে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।

দেশের বীমা আইন ও বিধি যুগোপযোগী করার বিষয়েও যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছেন কর্পোরেশনের বর্তমান ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। প্রধান নির্বাহী হিসেবে যোগদান করার পর সৈয়দ শাহরিয়ার ১৯৮৪ সালে প্রণীত অর্গানোগ্রাম, ১৯৯০ সালে প্রণীত ভ্রমনপ্রবিধানমালা ও ১৯৯২ সালে প্রণীত সার্ভিস রুলস, গৃহনির্মাণ অগ্রিম বিধিমালাসহ শৃঙ্খলতাজনিত অন্যান্য বিধি-বিধান পরিবর্তনের উদ্যোগ নেন।

এ বিষয়ে তাঁকে সার্বিক পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করেছেন পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা অনুষদের ডীন অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম।

সৈয়দ শাহরিয়ার জানান, ‘সাধারণ বীমা কর্পোরেশন কর্তৃক গৃহীত আবহাওয়া সূচক ভিত্তিক শস্যবীমার পাইলট প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এছাড়া দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে আর্থিক সেবাভূক্তির আওতায় আনার লক্ষ্যে সাধারণ বীমা কর্পোরেশন গবাদি পশু বীমা চালু করার পরিকল্পনা করছে। তাছাড়া বর্তমানে চাকুরীজীবী স্বাস্থ্য বীমা, বেকারত্ব ও মাতৃত্বকালীন বীমা নামে দুটি বীমা পলিসি চালুর প্রস্তাবনা অর্থ মন্ত্রণালয়ে সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে।’

আরো পড়ুন: নতুন ১৩টি পণ্যকে রপ্তানি প্রণোদনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত

পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, ‘সাধারণ বীমা কর্পোরেশনকে বীমা ও পুনঃবীমা ব্যবসার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে অবস্থান ধরে রাখতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘কর্পোরেশনের আয়-বৃদ্ধি, আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, গ্রাহক সেবার মান উন্নয়ন, নতুন বীমা পণ্য উদ্ভাবন, ডিজিটাল সেবা প্রদান করা ও বীমা ব্যবসায় পেশাদারী মনোভাব সৃষ্টির মাধ্যমে দেশে-বিদেশে সাধারণ বীমা কর্পোরেশনকে একটি অন্যতম সেরা কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে শীর্ষ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সাধারণ কর্মচারীদের অবদান কম কিছু নয়।’

ইত্তেফাক/এমআর