গাজায় আবার ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ পাঠাবে গ্রেটা-ম্যান্ডেলারা

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২৬, ০৯:১৮

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ তাদের এযাবৎকালের সর্ববৃহৎ মিশনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। বুধবার (১৮ মার্চ) এই সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, গাজার ওপর ইসরায়েলি অবরোধ চ্যালেঞ্জ করতে তারা ১০০টি নৌযান এবং সেই সঙ্গে স্থলপথেও বিশাল এক সমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। 

বিশ্বখ্যাত জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থানবার্গ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার নাতি মান্ডলা ম্যান্ডেলা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে এই নতুন মিশনের ঘোষণা দেন। গাজার বর্তমান মানবিক সংকটে বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে এটি একটি বড় ধরনের সংহতিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই বিশাল নৌবহর বা ফ্লোটিলার মূল লক্ষ্য হলো গাজার ওপর দীর্ঘকাল ধরে চলা ‘অবৈধ ইসরায়েলি অবরোধ’ সরাসরি মোকাবিলা করা। এর আগেও এই ধরনের অভিযানে অংশ নেওয়া গ্রেটা ও মান্ডলা এবার ১০০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিদের একত্রিত করার কথা জানিয়েছেন। তাদের দাবি, গাজায় যে বর্বরতা এবং অবরোধ চলছে, তা বিশ্ব সম্প্রদায়ের একাংশের পরোক্ষ মদদেই সম্ভব হচ্ছে। এই নৌবহরের মাধ্যমে তারা কেবল ত্রাণই পৌঁছাতে চান না, বরং গাজার মানুষের ওপর চলা অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সচেতনতা তৈরি করতে চান।

 
 
 
 
 
View this post on Instagram
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 

A post shared by Global Sumud Flotilla (@globalsumudflotilla)

ভিডিও বার্তায় মান্ডলা ম্যান্ডেলা উল্লেখ করেছেন যে, এই মিশনটি গাজার মানুষের অটল মনোবল বা ‘সুমুদ’কে সম্মান জানাতে উৎসর্গ করা হয়েছে। তারা মনে করেন যে, যখন বিশ্বনেতারা গাজার সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষায় ব্যর্থ হচ্ছেন, তখন সাধারণ মানুষের এই ধরনের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত জরুরি। 

এই মিশনে বিভিন্ন দেশের সামাজিক কর্মী, চিকিৎসক, সাংবাদিক এবং মানবাধিকার কর্মীরা অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। নৌপথে গাজার জলসীমায় প্রবেশের এই চেষ্টা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, এর আগেও গাজায় সাহায্য পাঠানোর এ জাতীয় প্রচেষ্টা ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বাধার মুখে পড়েছিল। তবে ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ এবার আগের চেয়ে অনেক বেশি সংগঠিত এবং বিশাল পরিসরে তাদের যাত্রা শুরু করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। 

তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী গাজার মানুষকে সাহায্য করা তাদের অধিকার এবং তারা এই লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হবে না। গাজার বর্তমান ভয়াবহ পরিস্থিতিতে এই ত্রাণবাহী নৌবহর শেষ পর্যন্ত কতটুকু সফল হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

সূত্র: আল জাজিরা

ইত্তেফাক/টিএইচ