শিবচরে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এএইচ আ. মান্নান খান আর নেই

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০১৯, ১৯:০৩

মাদারীপুরের শিবচরে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আওয়ামী লীগ নেতা এএইচ আ. মান্নান খান হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার দুপুর দেড়টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্ন ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৭৬ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। 

পারিবারিক সূত্র জানায়, তার ছোট মেয়ে মিঠু খান ও মেয়ে জামাতা প্রবাসে বাস করেন। একারণে তাঁর মরদেহ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয়েছে। মেয়ে-জামাতা দেশে ফিরে আসলে বুধবার শিবচর উপজেলা চত্বরে মরহুমের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। নামাজে জানাজা শেষে উমেদপুর তাঁর নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে দাফন করা হবে।

মরহুমের রাজনৈতিক জীবন: ৬৯ এ বরহামগঞ্জ কলেজের ছাত্র-ছাত্রী সংসদ নির্বাচনে তিনি সহ-সভাপতি (ভি.পি) নির্বাচিত হন, উমেদপুর ইউনিয়নের তিনবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন ও তাঁর স্ত্রী সালমা বেগম একই ইউনিয়নের একবার  চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন, আওয়ামী লীগের সমর্থনে ৮৯ এর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে শিবচর উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন, স্বাধীনতা যুদ্ধে সক্রিয় অংশ নেন। মুজিব বাহিনীর নেতা হিসেবে তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ছেলে-বেলায় একজন ভাল ফুটবল খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এছাড়া শিবচরের এএইচ আ. মান্নান খান ৮০' দশকে শিবচরের একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তৎকালীন স্বৈরাচার সরকার পতনের পরে ৯১’এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরীর পক্ষে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন। ’৯১ এর সেই নির্বাচনে নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী দাদা ভাইয়ের মৃত্যুর পরে বর্তমান সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই আলম চৌধুরী এমপির পক্ষে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।  

এদিকে, আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের সাহসী বর্ষীয়ান নেতা এ এইচ আ. মান্নান খানের মৃত্যুতে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও জাতীয় সংসদের আওয়ামী লীগ পার্লামেন্টারি পার্টির সেক্রেটারি নূর-ই-আলম চৌধুরী এমপি গভীর শোক  প্রকাশ করেছেন।

ইত্তেফাক/এমআই