সাত বছরের বিরোধের জেরে কিশোরকে টেঁটাবিদ্ধ করে হত্যা

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০২৬, ০৮:৪১

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ১৮ বছর বয়সী ইমন নামের এক কিশোরকে পিটিয়ে ও দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। টেঁটা ও বল্লমের আঘাতে মারাত্মক আহত হওয়ার পর তাকে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাত সোয়া ১১টার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার।

এর আগে, গতকাল রাত ৯টার পর উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের লুন্দিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

নিহত ইমন লুন্দিয়া পাগলা বাড়ির ইসা মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লুন্দিয়া গ্রামের পাগলা বাড়ি ও শেখ বাড়ির মধ্যে গত ৭-৮ বছর ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার রাতে ইমন তার বাবার দোকানের জন্য মিনিট কাঠ আনতে যাচ্ছিলেন। পথে শেখ বাড়ির লোকদের সঙ্গে তার সামান্য ধাক্কা লাগার ঘটনা ঘটে। এরই জের ধরে শেখ বাড়ির লোকজন ইমনের ওপর হামলা চালায়। তারা ইমনকে দেশীয় অস্ত্র বল্লম বা টেঁটা দিয়ে আঘাত করে মারাত্মক আহত করে।

খবর পেয়ে স্বজনরা ইমনকে উদ্ধার করে রাত ১১টার দিকে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন এবং দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার্ড করেন। কিন্তু স্বজনরা অ্যাম্বুলেন্স জোগাড় করার আগেই মঙ্গলবার রাত সোয়া ১১টায় হাসপাতালে মৃত্যু হয় ইমনের।
 
ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উম্মে হাবিবা জুই বলেন, ‘রাত ১১টার দিকে মারাত্মক আহত অবস্থায় ইমন নামের ওই কিশোরকে আমাদের হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তার শরীর থেকে প্রচন্ড রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। আমরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় রেফার্ড করি। কিন্তু তার আগেই রাত সোয়া ১১টার দিকে সে মারা যায়।’
 
এ বিষয়ে ভৈরব থানার সহকারী পরিদর্শক (এসআই) রাকিব বিন ইসলাম বলেন, ‘ফোনে খবর পেয়ে আমরা হাসপাতালে এসে কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি। আমরা লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেছি। নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ অনুসন্ধানে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জের সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে।’

ইত্তেফাক/এনটিএম