চার দেয়ালে বন্দী জীবনেও খুশির জোয়ার: মানিকগঞ্জ কারাগারে ব্যতিক্রমী ঈদ

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০২৬, ১৮:১৪

ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি। চিরন্তন এই সত্যটি কেবল মুক্ত মানুষের জন্যই নয়, বরং চার দেয়ালে বন্দী জীবনে থাকা মানুষদের জন্যও সমানভাবে প্রযোজ্য। সেই খুশির ছোঁয়া পৌঁছে দিতে মানিকগঞ্জ জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করেছে এক মানবিক ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। কারাবন্দীদের একঘেয়েমি জীবনে উৎসবের রঙ ছড়াতে আয়োজন করা হয়েছে নানা অনুষ্ঠান।

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৯টায় কারাগারের অভ্যন্তরে পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এই জামাতে সাধারণ বন্দীদের পাশাপাশি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামাজ আদায় করেন দায়িত্বরত কারারক্ষীরাও। নামাজ শেষে একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলির মাধ্যমে তারা ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

জানা গেছে, ঈদের দিন থেকে শুরু করে পরবর্তী তিনদিন পর্যন্ত বন্দীদের জন্য ছিল বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা। জেল সুপার, জেলার ও সুবেদারের উপস্থিতিতে এই ম্যাচটি বন্দীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। কঠোর নিরাপত্তার মাঝেও এমন মানবিক উদ্যোগ—উৎসবের আনন্দ যে সব সীমানাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে তারই দৃষ্টান্ত দেখায়। 

মানিকগঞ্জ কারাগারের সুবেদার হাবিবুর রহমান হাবিব জানান, বন্দীদের ঈদ উৎসবকে আনন্দময় করতে মেনুতে যোগ করা হয়েছিল উন্নতমানের খাবার। এছাড়া ঈদের দিন বিকেলে বন্দীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যা কারাগারের ভেতরে এক ভিন্ন আমেজ তৈরি করে।

উৎসবের আমেজ আরও বাড়িয়ে দিতে তৃতীয় দিনে আয়োজন করা হয় এক প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ। এ প্রসঙ্গে জেলার সৈয়দ জাবেদ হোসেন বলেন, মানিকগঞ্জ কারাগারে বর্তমানে পাঁচশত বন্দী রয়েছেন। তাদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে আমরাও একপ্রকার বন্দী জীবনে আটকে গেছি। তাই ক্রিকেট ম্যাচের মতো বিনোদনের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার চেষ্টা করেছি।

মানিকগঞ্জ জেল সুপার হুমায়ুন কবির খান বলেন, আমরা এবার বিশেষ ব্যবস্থা হিসেবে স্বজনদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ, ৫ মিনিট বিনামূল্যে ফোনে কথা বলা এবং টানা তিনদিন পর্যন্ত বাড়ির তৈরি খাবার খাওয়ার অনুমতি দিয়েছি। এতে তারা পরিবারের অভাব কিছুটা হলেও কম অনুভব করেছেন।

 

ইত্তেফাক/এসএএস