ছেলেকে চোর সন্দেহে মা-বাবাকে মারধরের ঘটনায় গ্রেপ্তার ২

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২৬, ২১:১৭

জামালপুর সদর উপজেলায় গরু চোর সন্দেহে এক যুবককে না পেয়ে তার বাবা-মাকে তুলে এনে সালিসে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। ওই নির্যাতন ও অপমান সইতে না পেরে জোসনা বানু নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুরে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জামালপুর থানার ওসি মিজানুর রহমান। এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে  তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন- একই এলাকার আজিজুর রহমানের ছেলে গোলাম কিবরিয়া মুক্তা (২৮) ও সেই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নায়েব আলীর ছেলে মো. হৃদয় (১৯)।

নিহত জোসনা বেগম ওই এলাকার সুরুজ আলীর স্ত্রী। 

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গত বুধবার রাতে আনুমানিক ২টার দিকে খলিলহাটা গ্রামের পুলিশ সদস্য নায়েব আলীর বাড়িতে চুরির চেষ্টা হয়। পরে রাত ৩টার দিকে তাকে সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় কয়েকজন সুজন মিয়াকে চোর সন্দেহে ধরতে গেলে তাকে না পেয়ে তার বাবা সুরুজ আলী ও মা জোসনা বানুকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। একই সময় তোতা মিয়া ও সোহেল রানাসহ আরও কয়েকজনকে ডেকে এনে সালিস বসানো হয়।

অভিযোগ রয়েছে, রাত থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত চলা ওই সালিসে সুরুজ আলী ও জোসনা বানুসহ তিনটি পরিবারের সদস্যদের মারধর ও হেনস্তা করা হয়। এই অপবাদ ও নির্যাতন সইতে না পেরে সালিস থেকে বাড়ি ফিরে জোসনা বানু আত্মহত্যা করেন।

ঘটনার পর নিহতের ছেলে সজিব বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৬ জনের বিরুদ্ধে জামালপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। 

জামালপুর থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনা জানার পর পর পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এ ঘটনায় নিহত নারীর ছেলে সজিব বাদি হয়েছে ১০ জনের নামসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। ইতোমধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

ইত্তেফাক/এপি