তেল সংকটে মহাসড়কে কমেছে যানবাহন, ব্যাহত বোরো আবাদ

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৯:০৩

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। তেলের অভাবে পাম্পগুলোতে মোটরসাইকেল ও ডিজেলচালিত যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। একই সঙ্গে গ্রামাঞ্চলে সেচ পাম্প চালাতে না পারায় বোরো আবাদ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

শনিবার মহাসড়ক ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন চালকরা, তবুও অনেকেই তেল পাচ্ছেন না।

ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা নাটোরের আরিফ হোসেন ও বগুড়ার ফিরোজ মিয়া জানান, তারা গাজীপুর ও ঢাকায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। রোববার তাদের অফিস শুরু হবে। মোটরসাইকেলে আগে থেকে জমা থাকা সামান্য তেল দিয়ে কোনোভাবে মির্জাপুর পর্যন্ত এসেছেন। তবে সোহাগপাড়া এলাকায় এসে তেল শেষ হয়ে যায়। পরে যুঁইযুঁথি ফিলিং স্টেশনে দেড় ঘণ্টার বেশি সময় লাইনে দাঁড়িয়েও তারা তেল পাননি। এতে তারা চরম বিপাকে পড়েছেন। তাদের মতো শত শত বাইকার একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন।

ট্রাকচালক আব্দুল মিয়া বলেন, ট্রাক চালিয়ে যা আয় করি, তা দিয়ে কোনোভাবে সংসার চালাই। কিন্তু ডিজেল না পাওয়ায় গত ৬-৭ দিন ধরে ট্রাক চালাতে পারছি না। পরিবার নিয়ে কষ্টে আছি।

বোরো মৌসুমে ওয়ার্শি এলাকার সেচ পাম্পের মালিক কৃষক শামসুল আলম খান জানান, ডিজেলের অভাবে গত ১৫-২০ দিন ধরে সেচ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে জমির বোরো ধানের চারা নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তিনি বলেন, এভাবে আর কতদিন চলা যায়? আমরা চরম সংকটে আছি।

এদিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের যমুনা সেতুর পূর্বপ্রান্ত থেকে এলেঙ্গা, টাঙ্গাইল বাইপাস, নগরজলফৈ, করটিয়া, নাটিয়াপাড়া, জামুর্কি, পাকুরিয়া, কুরনি, ইচাইল, মির্জাপুর, দেওহাটা, সোহাগপাড়া, বোর্ডঘর, কালিয়াকৈর ও চন্দ্রা এলাকায় মহাসড়কের দুই পাশের অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন বন্ধ দেখা গেছে।

কিছু স্টেশনে অল্প পরিমাণ তেল থাকলেও দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকেই তা সংগ্রহ করতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এর ফলে মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে এবং ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।

এ ব্যাপারে মির্জাপুরউপজেলা সহকারি কমিশনার ভুমি ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট তারেক আজিজ বলেন, পাম্পগুলোতে যাতে তেল মজুদ করে কৃত্তিম সংসট সৃষ্টি করতে না পারে সে জন্য নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে।

ইত্তেফাক/এএইচপি