চট্টগ্রাম

‘গাড়িতে গ্যাস না থাকাসহ’ নানা কারণে ফিডিং কর্মসূচির খাবার পায়নি ৪০ স্কুলের শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০২৬, ২২:০৪

সারাদেশে ১৫০ উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচির অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম জেলায় মনোনীত হয় আনোয়ারা উপজেলা।

এই কর্মসূচির আওতায় রোববার (২৯ মার্চ) সকালে আনোয়ারা উপজেলার ১১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। তবে কর্মসূচির প্রথম দিনেই প্রায় অর্ধশত বিদ্যালয়ে পৌঁছেনি খাবার।

এই পরিস্থিতিতে খাবার সরবরাহের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, গ্যাস সংকটে মাঝপথে গাড়ি আটকে যাওয়া, দূরবর্তী এলাকায় পৌঁছাতে না পারাসহ বিভিন্ন কারণে এই ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি ‘প্রথম দিন হিসেবে’ এই সমস্যা হয়েছে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সরকারি স্কুল ফিডিং কর্মসূচি (ফেইজ-১) প্রকল্পের আওতায় সারাদেশের (দরিদ্রপ্রবণ) ৮ বিভাগের মধ্যে ৬২টি জেলার ১৫০টি উপজেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের পুষ্টিকর টিফিন দেওয়া হচ্ছে। এরমধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে ১৩টি উপজেলা এই কার্যক্রমের আওতায় রয়েছে। চট্টগ্রাম জেলায় একটি মাত্র উপজেলা হিসাবে আনোয়ারা এই প্রকল্পে নির্বাচিত হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, শিক্ষার্থীদের সার্বিক পুষ্টিমান ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচির আওতায় বিদ্যালয় চলাকালীন প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের মাঝে পুষ্টি সমৃদ্ধ ফর্টিফাইড বিস্কুট, ইউএইচটি মিল্ক, বন রুটি, সিদ্ধ ডিম ও কলা/স্থানীয় মৌসুমি ফল বিতরণের কথা।

আনোয়ারা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য মতে, আনোয়ারা উপজেলায় ১১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ২০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার কথা রয়েছে। তবে কর্মসূচির প্রথমদিনে ৪০টি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা এই খাবার পাইনি বলে অভিযোগ করেছেন।

এ বিষয়ে উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে খবর নিয়ে জানা যায়, অধিকাংশ বিদ্যালয়ে খাবার পৌঁছায়নি, আবার অনেক বিদ্যালয়ে পৌঁছালেও তা নির্দিষ্ট সময়ের তুলনায় অনেক দেরিতে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকেরা জানান, সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে খাবার পৌঁছানোর কথা কিন্তু বিকেল ৪টা পেরিয়ে ক্লাস টাইম শেষ হলেও খাবার পৌঁছায়নি। রোববার খাবার দেওয়ার খবরে শিক্ষার্থীরাও নিজেদের টিফিন আনেনি, তারাও ক্ষুধায় কষ্ট পেয়েছে। ওই পরিস্থিতিতে খাবার সরবরাহ প্রতিষ্ঠানের যে নাম্বার দেওয়া হয়েছিল সেটাতে একাধিকবার কল করেও সাড়া পাওয়া যায়নি। বিষয়টি শিক্ষা অফিসে জানানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলোর প্রধান শিক্ষকেরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে খাবার সরবরাহের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘স্বদেশপল্লীর’ ক্লাসটার কো-অর্ডিনেটর মোহাম্মদ নাহিদ বলেন, খাবার পৌঁছানোর জন্য আমরা ৪-৫টি গাড়ি (সিএনজিচালিত অটোরিকশা) দিয়েছি। তবে গ্যাস সংকট, মাঝপথে গাড়ি বন্ধ হয়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন সমস্যার কারণে সব বিদ্যালয়ে। খাবার পাঠানো সম্ভব হয়নি। প্রথমদিন হিসেবে এই সমস্যাটি হয়েছে। কাল থেকে সব ঠিকঠাক মত হবে আশা করছি।

ৎখাবার না পাওয়ার বিষয়ে আনোয়ারা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ হিন্দুল বারী বলেন, ৪০টির মতো স্কুলে খাবার না পৌঁছানোর বিষয়ে আমার কাছে খবর এসেছে। আমি বিষয়টি লিখিত চিঠির মাধ্যমে চট্টগ্রাম জেলা শিক্ষা অফিসারকে জানিয়েছি। এ বিষয়ে তিনি ব্যবস্থা নেবেন।

ইত্তেফাক/এপি