নাগরিকদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সৌদি আরব। এখন থেকে সরকারের অনুমতি নেই—এমন কোনো দেশ ভ্রমণ করলে নাগরিকদের বড় অংকের জরিমানা ও দীর্ঘমেয়াদী ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হবে। গত মঙ্গলবার সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স আব্দুল আজিজ বিন সৌদ বিন নায়েফ কর্তৃক অনুমোদিত ‘ভ্রমণ নথিপত্র আইনের’ নতুন নির্বাহী প্রবিধানে এই কঠোর ব্যবস্থার কথা জানানো হয়েছে।
সৌদি গেজেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো দেশে ভ্রমণের অপরাধে একজন নাগরিককে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার রিয়াল (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১০ লাখ ৮০ হাজার টাকা) পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তির ওপর সর্বোচ্চ দুই বছরের জন্য বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে।
যদি কোনো ব্যক্তি একই অপরাধ দ্বিতীয়বার করেন, তবে জরিমানার পরিমাণ দ্বিগুণ হবে এবং ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বেড়ে পাঁচ বছর পর্যন্ত হতে পারে। মূলত বিপজ্জনক অঞ্চল, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ বা জরুরি ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা থাকা দেশগুলোকে এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত করেছে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
তবে বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে নমনীয়তার সুযোগ রাখা হয়েছে। যদি গন্তব্যস্থলে কোনো নাগরিকের প্রথম স্তরের আত্মীয় থাকে, ট্রানজিট সময় ৪৮ ঘণ্টার কম হয় কিংবা নাগরিকের বয়স ৬০ বছরের বেশি হয়, তবে জরিমানার পরিমাণ কমানো যেতে পারে।
নতুন আইনে পাসপোর্ট সংক্রান্ত জালিয়াতির বিষয়েও কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। পাসপোর্ট পাওয়ার জন্য মিথ্যা তথ্য দিলে ৫ হাজার রিয়াল জরিমানা ও ছয় মাসের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে। পাসপোর্টের কোনো তথ্য পরিবর্তন, ঘষামাজা বা অন্যকে ব্যবহারের সুযোগ করে দিলে জরিমানার পরিমাণ ১ লাখ রিয়াল (প্রায় ৩৬ লাখ টাকা) পর্যন্ত হতে পারে।
এছাড়া নির্ধারিত বন্দর ব্যতিরেকে অবৈধভাবে দেশ ত্যাগ বা প্রবেশের ক্ষেত্রেও কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। প্রবাসে বসবাসরত সৌদি নাগরিকদের তাদের পাসপোর্ট সংশ্লিষ্ট দূতাবাসে নিবন্ধিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণ পদ্ধতি সুশৃঙ্খল রাখতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
