স্বামীর কাজে সহযোগিতায় পাম্পে নারীরা

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১৭

মাগুরায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর মিলছে পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেন। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক কার্যক্রম। এমতাবস্থায় পরিবারের পুরুষ সদস্যদের সহযোগিতা করতে নারীরাও দাঁড়াচ্ছেন লাইনে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) শহরের ভিটাসাইর এলাকায় অবস্থিত মা ফাতেমা ফিলিং স্টেশনসহ বিভিন্ন পাম্প ঘুরে দেখা যায়, কৃষক, যানবাহন চালক ও মোটরসাইকেল আরোহীদের পাশাপাশি নারীরাও তেল সংগ্রহে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন।

জানা যায়, মাগুরায় মোট ১৪টি ফিলিং স্টেশন। সদর উপজেলার পাম্পগুলো ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা সেচযন্ত্রে ব্যবহারের জন্য ডিজেল পেতে পাত্র হাতে সেখানে ভিড় জমাচ্ছেন। অনেক কৃষক জানিয়েছেন, চলমান ধান আবাদের জন্য এখনও তাদের অনেক ডিজেল প্রয়োজন। যদি কোনো কারণে তেল আমদানি বন্ধ হয়, তাহলে আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

স্থানীয়রা বলছেন, নারীরা কেনাকাটায় সক্রিয় হলেও লাইনে দাঁড়িয়ে পাম্প থেকে জ্বালানি তেল কিনতে অভ্যস্ত নন। কিন্তু, যে সংকট চলছে, তাতে জ্বালানি সংগ্রহ করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। এতে দৈনন্দিন কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে । বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বেশি। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তেল সংগ্রহে ফিলিং স্টেশনে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন নারীরাও। পরিবারের পুরুষ সদস্যরা যাতে নিজেদের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারেন, সে জন্য ড্রাম হাতে পাম্পগুলোতে জড়ো হচ্ছেন তারা।

সদর উপজেলার কাটাখালি এলাকার আশা বেগমকে কোলে সন্তান নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তিনি বলেন, আমার স্বামী কৃষিকাজ করেন। তেল নিতে অনেক সময় লাগে, কখনো পুরো দিনও চলে যায়। এতে কৃষিকাজে ব্যাঘাত ঘটে। তাই  স্বামীর কাজে সহযোগিতা করতে নিজেই তেল নিতে এসেছি।

একই দৃশ্য দেখা গেছে সুফিয়া খাতুনের ক্ষেত্রেও। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে আমার স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে ঠিকভাবে কৃষিকাজ করতে পারেন না। তাই স্বামীর সহযোগিতা করতে তেল সংগ্রহ করতে আসছি।

এদিকে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ঠিক রাখতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি পাম্পে একজন করে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। 

জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাহামুদ বলেন, জেলায় জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। চলমান যুদ্ধে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় যানবাহন চালক এবং কৃষকদের অতি ব্যস্ততা রয়েছে। সুষ্ঠুভাবে সবাই যাতে জ্বালানি তেল পায়, সে জন্য প্রতিটি পাম্পে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মনিটরিং করছেন। অফিসার নিয়োগের পাশাপাশি পুলিশ সদস্যরা কাজ করছেন। সবাইকে সুশৃঙ্খলভাবে জ্বালানি তেল সংগ্রহের আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক।

এ বিষয়ে ভিটাসাইর এলাকার মা ফাতেমা ফিলিং স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার ও সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, পাম্পে ৫-৬ জন নারী তেল নিতে এসেছিলেন। তাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় না রেখে পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত তেল সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
 

ইত্তেফাক/এনটিএম