বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম তিন্দু ইউনিয়নের সড়কটি এখন কার্যত মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সাড়ে সাত কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের শুরু ও শেষ অংশে পিচঢালাই সম্পন্ন হলেও মাঝখানে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি স্থানে কাজ অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। ফলে একমাত্র যোগাযোগমাধ্যম হওয়া সত্ত্বেও সড়কটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পাহাড়ি জনপদের মানুষের নিরাপদ যোগাযোগের ভরসা হওয়ার কথা থাকলেও অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। অসম্পূর্ণ নির্মাণকাজ ও বিপজ্জনক বাঁকের কারণে শুধু স্থানীয় বাসিন্দারাই নয়, পর্যটকরাও চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। ঝুঁকি এড়াতে অনেকেই এখনো নৌপথে যাতায়াত করছেন।
জানা গেছে, ২০২০ সালে প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে পাউবো ইটসলিং নির্মাণ করে। পরে ২০২৩ সালে ১৯ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে এলজিইডি সড়কটির সংস্কার প্রকল্প হাতে নেয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রায় ৫০০ মিটার অংশ এখনো অসম্পূর্ণ রয়েছে। প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করছেন উপঠিকাদার মো. আনিসুর রহমান সুজন।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের শুরু ও শেষ প্রান্তে পিচঢালাই থাকলেও মাঝের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে ইটের আস্তর পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। এতে যান চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে এবং জনদুর্ভোগ বাড়ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী কফিল উদ্দিন বলেন, সড়কের অন্তত দুটি অংশ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। খাড়া ঢাল, তীব্র বাঁক ও ভাঙাচোরা অবস্থার কারণে যাতায়াতে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আঙোয়াই চিং মারমা, মেনডং ম্রো ও মেনলে ম্রো জানান, এই সড়কই তাদের একমাত্র স্থল যোগাযোগের পথ। জরুরি চিকিৎসা, শিক্ষা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে। ইতোমধ্যে ছোটখাটো দুর্ঘটনাও ঘটেছে বলে তারা জানান।
তিন্দু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ভাগ্যচন্দ্র ত্রিপুরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকার মানুষের প্রধান ভরসা ছিল নৌপথ। সড়ক নির্মাণ হলেও তা এখন ভয়াবহ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবে মানুষ বাধ্য হয়ে নৌপথেই যাতায়াত করছে।
এ বিষয়ে উপজেলা উপসহকারী প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন জানান, পাহাড়ি এলাকায় সড়ক নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ সবসময়ই চ্যালেঞ্জের। অসম্পূর্ণ কাজ ও প্রাকৃতিক কারণে ধসের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
