নিখোঁজের ২৪ দিন পর ক্ষেতে মিললো যুবকের মরদেহ, স্ত্রীসহ গ্রেপ্তার ২

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ১৫:৩০

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় নিখোঁজের ২৪ দিন পর ভুট্টাক্ষেত থেকে আবীর হোসেন (২০) নামে এক যুবকের গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবীরের স্ত্রীসহ দুজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

সর্বশেষ শুক্রবার (২ এপ্রিল) তাদের দুজনকে আদালতে সোপর্দের কথা জানিয়েছে পুলিশ। এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার সিংপুর ইউনিয়নের বাটিবরাটিয়া মাধাই নগর অংড়াইল হাওরে একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত আবীর হোসেন উপজেলার সিংপুর ইউনিয়নের বাটিবরাটিয়া উত্তর পাড়া মো. সিদ্দিক মিয়ার ছেলে। গ্রেপ্তাররা হলেন- সিংপুর ইউনিয়নের বাটিবরাটিয়া উত্তর পাড়া গ্রামের ফরিদ মিয়ার ছেলে মাহমুদুল হাসান (২০) ও তার স্ত্রী খেয়া আক্তার (১৮)।

নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ মার্চ  নিখোঁজ হয় আবীর মিয়া। বিভিন্নস্থানে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে গত ১৩ মার্চ পরিবারের পক্ষ থেকে নিকলী থানায় একটি জিডি করা হয়। পরে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে কৃষকরা ভুট্টাক্ষেতের পাশ গিয়ে আসার সময় একটি অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পান। স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ আবীরের পরিবারকে খবর দেয়। সন্ধ্যায় দিকে নিহতের বাবা ছিদ্দিক মিয়া ছেলের কাপড় দেখে অর্ধগলিত মরদেহটি নিখোঁজ আবীরের বলে শনাক্ত করেন।

মামলা ও থানা সূত্রে জানা গেছে, ২ বছর আগে রাজশাহী বাঘমারা উপজেলার আ. রশিদের মেয়ে খেয়া আক্তারের সঙ্গে টিকটকের মাধ্যমে প্রেম হয় বাটিবরাটিয়া উত্তর পাড়া গ্রামের ফরিদ মিয়ার ছেলে মাহমুদুল হাসানের। গত বছর ১৭ নভেম্বর নাটোর থেকে খেয়াকে মাহমুদুল নিকলীতে নিয়ে আসে। ওই বছরের ১৯ নভেম্বর মাহমুদুল ও খেয়ার বিবাহ হয়। এদিকে মাহমুদুল ও আবীর দুইজন বন্ধু এবং একই গ্রামে তাদের বাড়ি। সে সুবাদে আবীর প্রায় সময় খেয়ার সঙ্গে কথা বলতো। মার্চের প্রথম দিকে মাহমুদ হাসান তার মা-বাবার সঙ্গে কাজের উদ্দেশ্যে চট্টগ্রামে চলে আসে। এদিকে আবীর ও খেয়া মোবাইলে বিভিন্ন আপত্তিকর ছবি তোলে। এসব ছবি দেখে মাহমুদ বাড়িতে এসে আবীরকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। এর দুই দিন পর থেকে আবীর নিখোজঁ হয়।

নিকলী থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, আবীর মিয়া ২৪ দিন আগে নিখোঁজ হয়েছিলো। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভুট্টা ক্ষেতে তার গলিত মরদেহ পাওয়া গেছে। হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে মাহমুদুল ও তার স্ত্রী খেয়া আক্তারকে বৃহস্পতিবার রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়। এ ব্যাপারে আবীরের বাবা মো. সিদ্দিক মিয়া বাদী মাহমুদুল ও তার স্ত্রী খেয়া আক্তারের নাম উল্লেখ করে, অজ্ঞাত কয়েকজনের বিরুদ্ধে নিকলী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। নিহত আবীরের গলিত মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ মর্গে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার দুই আসামিকে শুক্রবার দুপুরে আদালতে হাজির করে রিমান্ড চাওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এপি