এবার বন্ধের পথে ডিএপি সার কারখানা

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৫:০০

গ্যাস সংকটে ইতোমধ্যে বন্ধ রয়েছে আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের দুই বৃহৎ সার কারখানা চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)। এই অবস্থায় অ্যামোনিয়া সংকটে বন্ধ হওয়ার পথে ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানী লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল)।

আগামী সপ্তাহ নাগাদ সিইউএফএল-কাফকো চালু হয়ে অ্যামোনিয়া সরবরাহ করতে না পারলে ডিএপিএফসিএল বন্ধ হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন কারখানাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মঈনুল হক। 

জানা যায়, দেশের কৃষি খাতে সুষম সারের ব্যবহার নিশ্চিতকরণ এবং ক্রমবর্ধমান যৌগিক সারের (নাইট্রোজেন ও ফসফরাস সম্বলিত) চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিসিআইসি’র নিয়ন্ত্রণাধীন ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানী লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় প্রতিটি দৈনিক ৮০০ মে.টন ডিএপি সার উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি পৃথক ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) নির্মাণ করা হয়। নির্মাণকাজ শেষে এই কারখানা ২০০৬ সাল হতে সফলভাবে ডিএপি সারের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে। বর্তমানে কারখানাটিতে দৈনিক ৬০০-৭০০ মেট্রিক ইউরিয়া উৎপাদন হচ্ছে।

ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা যায়, "প্রতিষ্ঠালঘ্ন থেকে পার্শ্ববর্তী দুই বৃহৎ সার কারখানায় সিইউএফএল এবং কাফকো থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহের মাধ্যমে ডিএপিএফসিএল ইউরিয়া উৎপাদন করছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে কারখানা দু'টি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অ্যামোনিয়া সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। যার ফলে জমা থাকা অ্যামোনিয়া শেষ হলে আগামী সপ্তাহ নাগাদ ডিএপিএফসিএলের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে।

এবিষয়ে ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মঈনুল হক বলেন, আমাদের কারখানায় অন্যান্য সার কারখানা মত বেশি গ্যাসের প্রয়োজন হয়না আবাসিক এলাকার গ্যাসের মত স্বল্প গ্যাসের মাধ্যমে কারখানা চালু থাকে তবে ইউরিয়া উৎপাদনের জন্য সিইউএফএল-কাফকো থেকে অ্যামোনিয়া না পাওয়ায় আগামী সপ্তাহ থেকে কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে। 

এসময় তিনি আরও বলেন, কারখানাটির প্রায় যন্ত্রপাতির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে, জনবলেরও সংকট রয়েছে তাই প্রতিষ্ঠাকালীন থেকে বর্তমান সময়ে উৎপাদন কমে যাওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি।

ইত্তেফাক/এএইচপি