বিচারের জন্য প্রস্তুত হয়েছে ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকসহ দুজনের বিরুদ্ধে করা ‘ফ্ল্যাট দুর্নীতির’ মামলা। টিউলিপ ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি।
বুধবার (৮ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ মামলাটি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এ বদলির আদেশ দিয়ে ১৬ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন রেখেছেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন জানিয়েছেন, মামলার গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়ে এসেছে। মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়া তা অন্য আদালতে বদলির আদেশ দেয়া হয়েছে।’
এ মামলাত আরেক আসামি রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা সরদার মোশাররফ হোসেন। তাদের পলাতক দেখিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
এর আগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি টিউলিপ সিদ্দিককে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারিরও নির্দেশ দেন বিচারক।
‘অবৈধ সুবিধা দিয়ে’ ঢাকার গুলশান-২ এলাকায় ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের একটি ফ্ল্যাট নেয়ার অভিযোগে গত বছরের ১৫ এপ্রিল দুদকের সহকারী পরিচালক মনিরুল ইসলাম এ মামলা দায়ের করেন।
মামলায় টিউলিপ সিদ্দিক ছাড়াও রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা শাহ মো. খসরুজ্জামান ও সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা-১ সরদার মোশারফ হোসেনকে আসামি করা হয়।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর ‘যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোনো টাকা পরিশোধ না করেই’ ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের গুলশান-২ এর ফ্ল্যাট [ফ্ল্যাট নম্বর বি/২০১, বাড়ি নম্বর ৫এ ও ৫বি (পুরনো), বর্তমানে- ১১৩, ১১বি (নতুন), রোড নম্বর ৭১] দখল নেন এবং পরে দলিল নিবন্ধন করেন।
মামলা হওয়ার পর গত বছরের জুলাই মাসে আসামি শাহ খসরুজ্জামান তদন্ত স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। হাইকোর্ট খসরুজ্জামানের বিষয়ে তদন্ত ৩ মাসের জন্য স্থগিত করে।
খসরুজ্জামানকে ছাড়াই বাকি দুই আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ করে দুদকের সহকারী পরিচালক এ কে এম মর্তুজা আলী সাগর চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালত ১৮ ফেব্রুয়ারি তা আমলে নেয়।
এর আগে, পূর্বাচল নতুন শহরে প্লট বরাদ্দে জালিয়াতির আলাদা তিন মামলায় দুই বছর করে ৬ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে টিউলিপ সিদ্দিকের।
বরাবরই সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসা এই ব্রিটিশ এমপি বলে আসছেন, তার খালা শেখ হাসিনার প্রতি ‘প্রতিহিংসা’ থেকে তার বিরুদ্ধে এসব ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ মামলা দেয়া হয়েছে।
