ইসরায়েল আলোচনার টেবিলেই ছিল না, এমন বিপর্যয় আগে কখনও হয়নি: ইয়ার লাপিদ

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:৪৬

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর তীব্র সমালোচনা করেছেন বিরোধী দল ইয়েশ আতিদ পার্টির নেতা ইয়ার লাপিদ। তিনি অভিযোগ করেন, এই প্রক্রিয়ায় ইসরায়েলকে আলোচনার টেবিলে রাখা হয়নি। এটিকে তিনি দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ধরনের রাজনৈতিক বিপর্যয় হিসেবে উল্লেখ করেন।

এর আগে, পরমাণু ইস্যুতে পরোক্ষ আলোচনা চলাকালে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে একই দিনে ইরান ইসরায়েলের পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা চালায়। পাশাপাশি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নেয় ইরানি বাহিনী।

সংঘাতের প্রায় পাঁচ সপ্তাহ পর পাকিস্তানের মধ্যস্থাতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। যা ইরান ও মার্কিন উভয় পক্ষই নিশ্চিত করেছে। 

বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এক এক্স পোস্টে জানান, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এবং তাদের মিত্ররা যুদ্ধবিরতিতে একমত হয়েছে। যা লেবানন ও অন্যসব রণাঙ্গনে কার্যকর হবে।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তে সমর্থন জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। যদিও তিনি বলছেন, ‘এই যুদ্ধবিরতিতে লেবানন অন্তর্ভুক্ত থাকবে না।’

এই যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে ইসরায়েলের জন্য বড় বিপর্যয় বলে অভিহিত করেছেন দেশটির বিরোধী দলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ। এক এক্স বার্তায় তিনি বলেছেন, ‘আমাদের সমগ্র ইতিহাসে এত বড় রাজনৈতিক বিপর্যয় আগে কখনও ঘটেনি। আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার মূল বিষয় নিয়ে যখন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, তখন ইসরায়েল আলোচনার টেবিলেই ছিল না।’

লাপিদ বলেন, ‘সেনাবাহিনী তাদের কাছে যা চাওয়া হয়েছিল সবই করেছে, জনগণ অসাধারণ ধৈর্য ও সহনশীলতা দেখিয়েছে। কিন্তু নেতানিয়াহু রাজনৈতিকভাবে ব্যর্থ হয়েছেন, কৌশলগতভাবে ব্যর্থ হয়েছেন এবং তিনি নিজে যে লক্ষ্যগুলো ঠিক করেছিলেন, তার একটিও অর্জন করতে পারেননি।’

তিনি আরও বলেন, ‘অহংকার, অবহেলা ও কৌশলগত পরিকল্পনার অভাবের কারণে নেতানিয়াহু যে রাজনৈতিক ও কৌশলগত ক্ষতি করেছেন, তা ঠিক করতে আমাদের অনেক বছর সময় লাগবে।’

ইত্তেফাক/এমএস