পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে শিগগিরই সুখবর আসছে: মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:৫৪

পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সম্পাদিত শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নে খুব শিগগিরই ইতিবাচক খবর আসতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে সচিবালয়ে নিজ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান। 

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, পাহাড়ে দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বর্তমান সরকার বিশেষ ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী শান্তি চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে কাজ চলছে এবং খুব দ্রুতই এ বিষয়ে জাতির সামনে একটি সুখবর আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান পাহাড়ের প্রতিটি জনগোষ্ঠীর স্বকীয়তা ও কৃষ্টি রক্ষার বিষয়ে সরকারের অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বর্তমান সরকারের দৃষ্টিতে পাহাড়ি ও বাঙালির মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই এবং প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করাই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। 

দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় সব জনগোষ্ঠীকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি জানান, পার্বত্য অঞ্চলে কোনো ধরনের বৈষম্য রাখা হবে না। পাহাড়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

পাহাড়ের ঐতিহ্যবাহী নববর্ষ উৎসব নিয়ে এবার একটি বিশেষ সিদ্ধান্তের কথা জানান মন্ত্রী। তিনি ঘোষণা করেন, এবার সম্মিলিত ‘বৈসাবি’ নামে নয়, বরং পার্বত্য এলাকার ১১টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রধান সামাজিক উৎসবগুলো তাদের নিজস্ব নামে উদযাপিত হবে। 

মন্ত্রী এই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে বলেন যে, ‘বৈসাবি’ নামটি মূলত তিনটি বড় সম্প্রদায়ের সংক্ষিপ্ত রূপ ছিল, যা পাহাড়ের অন্যান্য জাতিসত্তার পূর্ণ পরিচয় বহন করত না। তাই সব জনগোষ্ঠীর জাতীয় ঐতিহ্যের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের লক্ষ্যে এবার বিজু, বৈসু, সাংগ্রাই, বিষু, চাংলান ও চাংক্রান নামে উৎসবগুলো আলাদাভাবে পালন করা হবে।

উল্লেখ্য, আগামী ১২ এপ্রিল থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের এই প্রধান সামাজিক উৎসবগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে। উৎসবের সূচনালগ্নে ওইদিন সকালে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালির আয়োজন করা হবে। 

এছাড়া পাহাড়ের চিরায়ত ঐতিহ্য ও রীতি মেনে রাজধানীর রমনা পার্কের লেকের জলে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে এই আনন্দ উৎসবের শুভ সূচনা ঘটবে। উৎসবের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং সরকার সব জাতিসত্তার সংস্কৃতি উদযাপনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করছে।

ইত্তেফাক/টিএইচ