বাংলাদেশ ফুটবল লিগে বসুন্ধরা কিংসের আর্জেন্টাইন কোচ রবার্তো কার্লোস মারিও গোমেজ অনেক আগেই চলে গেছেন। ৯ ম্যাচ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। গত তিন ম্যাচ ধরে বিদেশি কোচ ছাড়াই চলছে বসুন্ধরা কিংস।
লিগের ১২ ম্যাচ শেষ। গতকাল নিজেদের মাঠে ১২ নম্বর ম্যাচে বসুন্ধরা কিংস ২-১ গোলে আরামবাগ ক্রীড়া সংঘকে হারিয়েছে। ম্যাচের ২৪ মিনিটে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার ডরিয়েলটন গোল করেছেন, ২৮ মিনিটে তার অ্যাসিস্ট থেকে গোল করেছেন নাইজেরিয়ান সানডে। ৬৩ মিনিটে আরামবাগের ঘানাইয়ান ফুটবলার সাদরাখ লানতে মিলস গোল করে ব্যবধান কমান। গত ৭ এপ্রিল ফেডারেশন কাপ ফুটবলে বসুন্ধরা কিংস ৫-০ গোলে হারিয়েছিল আরামবাগকে।
বিদেশি কোচ এবং বিদেশি ফুটবলারনির্ভর বসুন্ধরা কিংস এখন কঠিন সময় পার করছে। বিদেশি ফুটবলার এখনো দলে আছেন। সমস্যা বেঁধেছে বিদেশি কোচ নিয়ে। বসুন্ধরা কিংস সব সময় বিদেশি কোচনির্ভর ছিল। টানা সময় কাজ করে গেছেন স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজন। তিনি চলে যাওয়ার পর একাধিক বিদেশি কোচ এসেছেন। কিন্তু বেশি সময় কাজ করার সুযোগ হয়নি। এবার আর্জেন্টাইন কোচ রবার্তো কার্লোস মারিও গোমেজ এসেও টিকতে পারলেন না। তার কাজের ধরনের সঙ্গে কর্মকর্তাদের চাওয়া মেলেনি।
কিংসের সূত্রে খবর হচ্ছে কোচ কোনো কথা শোনেন না। পরামর্শ গ্রহণ করেন না। কোনো কিছু হলে আলোচনা করার প্রয়োজনও মনে করেন না-এসব নানা কারণে কিংসের কর্তাদের সঙ্গে টানাপড়েন সৃষ্টি হয়েছিল। লিগের ৯ ম্যাচ শেষ করে লিগের বিরতিতে দেশে গিয়েছিলেন কোচ। তাকে আর রাখা হয়নি। রাখেনি কিংস কর্তৃপক্ষ। দেশি কোচ দিয়েই এখন কাজ চালিয়ে নিচ্ছে। কোচিং স্টাফ রয়েছে গোলাম জিলানী, মাহবুব হোসেন রক্সি।
যদিও বায়জিদ জোবায়ের নিপুকে হেড কোচ হিসেবে দেখানো হচ্ছে, তবে রক্সি ও জিলানী মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন। তারা কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভালোমন্দ আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। আর তাতে সুফলও পাচ্ছেন বলে মনে করছেন তারা। পুলিশের বিপক্ষে হারের পর টানা তিন ম্যাচ ড্র হয়েছিল। এখন টানা চার ম্যাচ জিতেছে। এভাবে জয়ের ধারায় থাকলে লিগ শিরোপা পুনরুদ্ধার করার সুযোগ পাবে বলে মনে করছেন কিংসের কর্তারা।
তবে দুশ্চিন্তা হচ্ছে আর্জেন্টাইন কোচ ফিফায় নালিশ করেছেন। ফিফাও কোচ ইস্যুতে বসুন্ধরা কিংসকে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বলে জানা গেছে। ফিফার টেবিলে ১০টি নালিশ জমা পড়েছে।
গতকাল গাজীপুরে লিগের অন্য ম্যাচে মিঠু চৌধুরী ও পিয়াস আহমেদ নোভার গোলে ফটির্স এফসি হারিয়েছে (২-০) পুলিশকে। আজ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত লিগের খেলা নেই।

