ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা শেষে ইসলামাবাদে সংবাদ সম্মেলন করেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এ আলোচনায় নমনীয় মনোভাব এবং সদিচ্ছা নিয়ে এসেছিল। কিন্তু ইরান মার্কিন শর্ত মেনে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ভ্যান্স আরও বলেছেন, তেহরানের পক্ষ থেকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার ব্যাপারে 'শক্ত অঙ্গীকার' রয়েছে, সেটি দেখতে পারতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে।
ভ্যান্স বলেন, আমরা ইরানিদের সাথে বেশ ফলপ্রসূ আলোচনা করেছি, সেটা আশার কথা। কিন্তু খারাপ খবর হলো যে, আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি। আর আমি মনে করি, এই ব্যর্থতা যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্যই বেশি ক্ষতিকর।
ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা বন্ধ করাই যুক্তরাষ্ট্রের 'মূল লক্ষ্য' বলে জানিয়েছেন ভ্যান্স। ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি ওই কথা বলেন।
সহজ কথা হলো, আমরা ইরানের কাছ থেকে এমন একটি সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেখতে চাই যে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং এমন কোনো সরঞ্জামও খুঁজবে না যা দিয়ে তারা দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারে, বলেন জেডি ভ্যান্স।
এই বিষয়টিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন মার্কিন এই ভাইস প্রেসিডেন্ট।
তবে তিনি এ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন যে, ইরান যাতে ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে সেজন্য তাদের পক্ষ থেকে দৃঢ় মানসিক অঙ্গীকার প্রয়োজন।
আমরা এখনো সেই অঙ্গীকার দেখতে পাইনি। তবে ভবিষ্যতে তা দেখতে পাব বলে আমরা আশা করি, বলেন জেডি ভ্যান্স।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওই বৈঠকে ইরানের জব্দ করা সম্পদ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
আমরা ওই সব বিষয় নিয়ে কথা বলেছি উল্লেখ করে ভ্যান্স বলেন, এর বাইরেও আরো অনেক বিষয়ে আলোচনা করেছি। তিনি জানান, আমরা এমন কোনো অবস্থায় পৌঁছাতে পারিনি যেখানে ইরানিরা আমাদের শর্তগুলো মেনে নিতে রাজি ছিল।
দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর পাকিস্তান ত্যাগ করেছেন মার্কিন প্রতিনিধিদল। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, ইরানের প্রতিনিধিদলও ইসলামাবাদ ছেড়েছেন।

হরমুজে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের